বাংলা ভাষায় ডার্ক ম্যাটার নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বই। বেরুচ্ছে ২০১৬ বইমেলায়

বাংলা ভাষায় সম্ভবত ডার্ক ম্যাটার নিয়ে প্রথম কোনো পূর্ণাঙ্গ বই। এমন রহস্যময় একটা টপিক নিয়ে আস্ত একটা বই হয়ে গেলে এর জন্য হাতে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা কীভাবে করি? এই লেখকই গত দুই বইমেলায় অন্যান্য বইয়ের পাশাপাশি এমন ধরনের চমৎকার টপিকের দুটি বই লিখেছিলেন। ১. থাকে শুধু অন্ধকার (মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ) ২. ভঙ্গুর পৃথিবী ছেড়ে নক্ষত্রের পানে। প্রথম বইটা অতি-মাত্রায় ভালো লেগেছিলো। সমান্তর ধারায় এই বইমেলাতেও চমৎকার টপিকের উপর বই উপহার দিচ্ছেন। আশা করি প্রতি বছরই এমন একটি করে উপহার দিয়ে যাবেন। smile emoticon

বইটি সম্বন্ধে লেখক ‘ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী’ স্যার বলেছেন “গোলাপ ফুলের কাঁটা যেমন একটি বিরক্তিকর সমস্যা, ডার্ক ম্যাটার বা তমোবস্তুর সমস্যা জ্যোতির্বিদ্যার জন্য তেমন একটি বিরক্তি উদ্রেককারী সমস্যা। প্রমিত বিশ্বচিত্র বা স্ট্যান্ডার্ড কসমোলজিতে এই সমস্যাটি গত কয়েক দশক ধরেই বিব্রতকর ছন্দপতনের কারণ হচ্ছে। মহাবিশ্বের বস্তু-ঘনত্বের একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে আমরা দেখতে পারছি না, ধরতে পারছি না, বুঝতে পারছি না – এটা চূড়ান্ত রকমের হতাশাব্যঞ্জক। একইসাথে এটা ভবিষ্যতের তরুণ বিজ্ঞানীর জন্য একটা যথোপযুক্ত চিন্তার চ্যালেঞ্জও বটে।”

— এভাবেই লিখেছি ‘ডার্ক ম্যাটার’ বইটির ভূমিকা। ডার্ক ম্যাটার বা তমোবস্তু জ্যোতির্বিজ্ঞানের এক অসমাহিত সমস্যা। এ আছে কিন্তু ধরা যাচ্ছে না, আমরা জানি সে আছে, কিন্তু তবু সে অধরা। এক অদ্ভুত মিস্ট্রি এই তমোবস্তু ঘিরে। তমসাচ্ছন্ন এই বস্তু নিয়েই এই বইটি – কীভাবে ডার্ক ম্যাটার সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা জানলেন, কীভাবে এটা প্রমিত বিশ্বচিত্রে স্থান পেল, এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা এ সম্পর্কে কী জানেন, কতটুকু জানেন, কীভাবে জানেন, আর কতটুকু জানা যাবে, কীভাবে সেটা জানা যাবে, পদার্থবিজ্ঞানের সর্বাধুনিক এক্সপেরিমেন্ট এবং তার জন্য দরকারী যন্ত্রপাতির সাথে পরিচিতি। উপরি হিসেবে থাকছে লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার এবং হিগ্‌স বোসনের আবিষ্কার নিয়ে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। “ইতিপূর্বে আমার একাধিক গ্রন্থে তমোবস্তুর সমস্যা আলোচিত হয়েছে সংক্ষিপ্ত কলেবরে। বর্তমান গ্রন্থখানি শুধুমাত্র তমোবস্তুর বিষয়খানি নিয়েই রচিত হলো – তমোবস্তুর আবিষ্কারের নেপথ্য কাহিনি, এর সালতামামি, বর্তমান গবেষণার হালহকিকত। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অনুসন্ধান এবং ত্বরকযন্ত্রে তমোবস্তুর খোঁজে কী কী অগ্রগতি হয়েছে, ভবিষ্যতে কী হতে যাচ্ছে সেসব নিয়েই ছোট কলেবরে এই বইটি রচিত হলো। আশা করি, খুদে বিজ্ঞানী এবং কৌতূহলী তরুণদের জন্য এটি তমোবস্তুর পিপাসা মেটাবে।”প্রকাশনাঃ প্রকৃতি পরিচয়, সংহতির স্টলে ৪১৩-১৪ নং এ পাওয়া যাবে।