Welcome to Zero to Infinity Q&A. To ask questions or answer any question please Register first. Thank You.

নতুন নতুন ফ্লু ভাইরাসের আগমন কি বিবর্তনের উদাহরণ?(বিস্তারিত দেখুন )

3 like 0 dislike
37 views
asked Jun 24, 2015 in Life by আজাদ (4,233 points)
7% Accept Rate
Share at -

1 Answer

2 like 0 dislike
answered Jun 24, 2015 by আজাদ (4,233 points)

বার্ডফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ও মানুষের ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগ হয় ইনফ্লুয়েঞ্জা নামক ভাইরাস দিয়ে। যাদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের আরএনএ-র গঠন এবং জেনেটিক ড্রিফট সম্পর্কে ধারণা নেই তারাই কেবল নতুন নতুন ইনফ্লুয়েঞ্জা স্ট্রেইন তৈরী হওয়াকে ডারউইনীয় বিবর্তন বলবে। তবে হ্যাঁ, বিবর্তন বলতে যদি শুধুমাত্র একই প্রজাতির মধ্যে পরিবর্তন বুঝায় তথা একটি প্রজাতির মধ্যে ভ্যারাইটি তৈরী হওয়া বুঝায় তাহলে এটাকে বিবর্তন বলা যায়। তবে এই বিবর্তন কখনোই ডারউইনীয় এককোষ থেকে মানুষের বিবর্তনকে ব্যাখ্যা করতে পারে না। অন্য কথায় মাইক্রোইভোলিউশন ম্যাক্রোইভোলিউশনকে ব্যাখ্যা করতে সক্ষম নয়।

ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের জেনেটিক এলেমেন্ট হিসেবে আরএনএ থাকে (লক্ষ্যণীয়, ভাইরাসে জেনেটিক এলেমেন্ট হিসেবে ডিএনএ-র পরিবর্তে আরএনএ থাকতে পারে); মজার বিষয় হল এই ভাইরাসে আরএনএ একটি অবিচ্ছিন্ন চেইন হিসেবে থাকে না, বরং ৮টি খণ্ডে বিভক্ত থাকে। এই ভাইরাসের আক্রমণ করার ক্ষমতা নির্ভর করে হিমাগ্লুটিনিন ও নিউরামিনিডেজ নামক দুটি প্রোটিনের উপর। যে এন্টিভাইরাল ঔষধগুলো তৈরী করা হয় তা মূলত কাজ করে এদের উপর। (1) কোন কারণে যদি এই প্রোটিনদ্বয়ের এমাইনো এসিডের সিকোয়েন্সে সামান্য পরিবর্তন আসে তবে উক্ত ঔষধ আর কাজ করতে পারে না। আমরা বলেছি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস ৮টি আরএনএ খণ্ড নিয়ে গঠিত। এই আরএনএ খণ্ডগুলোই হিমাগ্লুটিনিন ও নিউরামিনিডেজ প্রোটিনের জেনেটিক তথ্য ধারণ করে। বংশবৃদ্ধিকালীন আরএনএ রেপ্লিকেশনের সময় মিউটেশন (জেনেটিক এরর) হয়। মিউটেশন হওয়ার সময় যদি এমাইনো এসিড সিকোয়েন্সে এমন ক্ষুদ্র পরিবর্তন আসে যে তা হিমাগ্লুটিনিন ও নিউরামিনিডেজ-এর মূল গঠনকে ব্যহত না করে শুধুমাত্র যেই অংশটুকু ভাইরাসের আক্রমণের কাজে লাগে (এপিটোপ) তাতে সামান্য পরিবর্তন আনে তাহলে ভাইরাসটি আক্রমণ ক্ষমতা (ভিরুলেন্স) অক্ষুণ্ণ রেখে ঔষধের বিপরীতে রেজিস্টেন্স হয়ে যাবে। কারণ এই ভাইরাসের বিপরীতে যে ঔষধগুলো কাজ করে, সেগুলো ভাইরাসের উক্ত প্রোটিনদ্বয়ের নির্দিষ্ট অংশের সাথে ত্রিমাত্রিক গঠনে সম্পূরক ভাবে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করে। তবে এ প্রক্রিয়ায় কোন অবস্থাতেই ভাইরাসটি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস থেকে অন্য ভাইরাসে পরিণত হবে না। কারণ যে মিউটেশনগুলো উক্ত প্রোটিনদ্বয়ে বা ভাইরাসের অন্যান্য গঠনে স্ট্রাকচারাল পরিবর্তন এনে ফেলে সেগুলোতে প্রকৃতপক্ষে ভাইরাসগুলো মারা যায় (এটাকে বলে জেনেটিক এররের লিমিট ক্রস করে যাওয়া); Jewetz, Melnick ও Adelberg, তাদের Medical Microbiology বইতে হিমাগ্লুটিনিন (HA) এর গঠন সম্পর্কে এভাবে বলছেন:

The HA molecule is folded into a complex structure. Each linked HA 1 and HA 2 dimer forms an elongated stalk capped by a large globule. The base of the staclk anchors it is the membrane. Five antigenic sites on the HA molecule exhibit extensive mutations. These sites occur at regions exposed on the surface of the structure, are apparently not essential to the moleule's stability, and are involved  in viral neutralization. Other regions of the HA molecule are conserved in all isolates, presumably because they are necessary for the molecules to retain its structure and function. (2)

অর্থাৎ একটি ভাইরাসকে অন্য ভাইরাসে পরিণত করতে হলে শুধু একটি বা দুটি প্রোটিন নয়, পুরো স্ট্রাকচারের পরিবর্তন আনতে হবে। আসলে এমাইনো এসিড পরিবর্তনের এই ঘটনাকে বলে মাইক্রোইভোলিউশন, কিন্তু এ ঘটনা কোন অবস্থাতেই ম্যাক্রোইভোলিউশনের (অর্থাৎ মেজর ফাংশনাল চেঞ্জ) দাবীকে ব্যাখ্যা করতে পারে না। এজন্য অসংখ্য নতুন তথ্য জিনোমে যোগ হতে হবে।

ইনফ্লুয়েঞ্জা-এ ভিরিয়ন

 

আমরা মাঝে মাঝে খবর পাই যে চীনে সোয়াইন ফ্লু আক্রমণ করেছে, কিংবা বাংলাদেশের অমুক জায়গায় বার্ড ফ্লু আক্রমণ করেছে। যারা সচেতন তারা খেয়াল করে থাকবেন- এই সময়ে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের নতুন ‘স্ট্রেইন’ পাওয়া যায়, যেটার বিরুদ্ধে আগের ঔষধ কাজ করে না। এই নতুন স্ট্রেইন পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বলা হয় ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসে জেনেটিক ড্রিফট হয়েছে। আসলে কী হয় জেনেটিক ড্রিফট-এ? আমরা জেনেছিলাম এই ভাইরাসের আরএনএ (তথা জিনোমিক এলেমেন্ট) খণ্ডিত। মোট ৮টি খণ্ড নিয়ে জেনেটিক এলেমেন্ট গঠিত।  লক্ষ্য করে দেখবেন ইনফ্লুয়েঞ্জা যেমন পাখিকে আক্রমণ করে আবার শুকরকেও আক্রান্ত করে। পাখিকে আক্রমণকারী ভাইরাসের ‘স্ট্রেইন’ এবং শুকরকে আক্রমণকারী ভাইরাসের ‘স্ট্রেইন’ ভিন্ন। এদের হিমাগ্লুটিনিন (H) এবং নিউরামিনিডেজ (N) প্রোটিনের ধরণের উপর ভিত্তি করে এদের বিভিন্ন নাম দেয়া হয়। যেমন ধরুন H1N1, H2N3 ইত্যাদি। মনে করুন কোন ভাবে দুটো ভাইরাসই একটি হাঁসকে আক্রমণ করল। সুতরাং একটি ভাইরাসের ৮ খণ্ড আরএনএ যেমন হাঁসটিতে আছে তেমনি আরেকটি ভাইরাসের ৮ খণ্ড আরএনএ-ও আছে। (3) তবে এদের মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা আছে। এখন উক্ত হাঁসে ভাইরাসটি যখন বংশবৃদ্ধি করছে তখন প্রথমটার ৪টি খণ্ড ও পরেরটার ৪টি খণ্ড নিয়ে গঠিত হলো এবং প্রথমটার H1 এবং দ্বিতীয়টার N3 নিয়ে নতুন একটি স্ট্রেইন H1N3 তৈরী হল। এই স্ট্রেইনটির বিরুদ্ধে যেহেতু কোন ঔষধ নেই, এটা ইনফ্লুয়েঞ্জা প্যানডেমিক তৈরী করতে পারে। এ ঘটনাটাই আমরা মাঝে মাঝে দেখতে পাই এবং এটাই হল জেনেটিক ড্রিফট।(4) লক্ষ্য করুন, এই পদ্ধতিতে ভাইরাসটি নতুন কোন ভাইরাসে পরিণত হলো না। কেননা H ও N কে তাদের পূর্ণাঙ্গ জেনেটিক তথ্য দিয়ে তৈরী করে না দেয়া পর্যন্ত জেনেটিক ড্রিফট ঘটার সম্ভাবনা নেই। সুতরাং যারা এই উদাহরণ দিয়ে একটি কোষ থেকে ধাপে ধাপে মানুষ আসার গালগল্প শুনায় তাদের ‘উদ্দেশ্য’ সম্পর্কে আমাদের ধারণা পেতে কোন কষ্ট হয় না। আপনারা কী বলেন?

 

Ref:

1. Jewetz, Melnick, Adelberg; Medical Microbiology, 23rd edition, Chapter 39, Orthomyxoviruses; Page 536

2. Jewetz, Melnick, Adelberg; Medical Microbiology, 23rd edition, Chapter 39, Orthomyxoviruses; Page 540 [Emphasis Added]

3. http://www.virology.ws/2013/04/16/avian-influenza-h7n9-viruses-isolated-from-humans-what-do-the-gene-sequences-mean/

4. http://www.virology.ws/2009/05/12/viral-quasispecies-and-bottlenecks/

commented Jun 24, 2015 by আজাদ (4,233 points)
লিখেছেন ঃ আব্দুল্লাহ সাইদ খান

Question followers

0 users followed this question.

Related questions

4,677 questions

5,802 answers

1,861 comments

16,017 users

45 Online
0 Member And 45 Guest
Most active Members
this month:
  1. Reduan Hossain Riad - 1 points
  2. The Rysul - 1 points
Gute Mathe-Fragen - Bestes Mathe-Forum
...