Welcome to Zero to Infinity Q&A. To ask questions or answer any question please Register first. Thank You.

ঐক্যবদ্ধ তত্ত্বঃ এক মহাবিশ্ব, এক তত্ত্ব(বিস্তারিত)

5 like 0 dislike
218 views
asked Feb 2, 2014 in Astronomy by আজাদ (4,233 points)
7% Accept Rate
Share at -

4 Answers

2 like 0 dislike
answered Feb 2, 2014 by আজাদ (4,233 points)
 

universeকি এই ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব?
মহাবিশ্বের সবকিছু পর্যবেক্ষণ করতে পারে তার সবকিছু নিখুঁত হিসাব নিকাশের মাধ্যমে ব্যখ্যা করার জন্য পদার্থবিজ্ঞানীরা প্রতিটি তত্ত্ব গড়ে তুলেছেন। পরবর্তীতে এই তত্ত্বগুলো ব্যবহার করে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সাধিত হয় ফলে মানুষের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাও বেড়ে যায় এবং অজানা সব বস্তু/ঘটনাবলী আবিষ্কৃত হয়। মহাবিশ্বে ঘটে চলা আশ্চর্যজনক এসব ঘটনা ব্যখ্যার জন্য পদার্থবিজ্ঞানীরা প্রচলিত তত্ত্বগুলো ব্যবহার করতে অধিক পছন্দ করেন কিন্তু প্রচলিত তত্তগুলো যখন ব্যর্থ হয় তখন বাধ্য হয়ে পুরাতন চিন্তাভাবনা পরিত্যাগ করে প্রতিভাবান বিজ্ঞানীরা নতুন একটি তত্ত্ব গড়ে তোলেন। এভাবেই একের পর এক তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে গত ৫০০ বছরে জন্ম নিয়েছে চিরায়ত পদার্থবিজ্ঞান এবং আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞান নামক দুই প্রজন্মের পদার্থবিজ্ঞান আর গড়ে উঠেছে অনেকগুলো বিষ্ময়কর, চাঞ্চল্যকর এবং মজার মজার সব তত্ত্ব।

এখন সমস্যা হল প্রতিটি তত্ত্ব নিজ নিজ ক্ষেত্রে দারুণভাবে সফল হলেও একটি তত্ত্বের সাথে অন্য একটি তত্ত্বের আদর্শগত ব্যপক অসংগতি পরিলক্ষিত হয় এবং মহাবিশ্বের সর্বত্র সকল বস্তুর জন্য একই নিয়ম প্রয়োগ করা যায়না অর্থাৎ চিরায়ত এবং আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের তত্ত্বগুলো স্থান-কাল-বস্তু-গতি নিরপেক্ষ নয়। যেমন নিউটনের গতিসূত্র গুলো আমাদের চারপাশের বৃহৎ বস্তু সমুহের গতি-প্রকৃতি খুব ভাল করে বর্ণনা করতে পারলেও এই সূত্রগুলো আলোর গতির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়না। আবার কোয়ান্টাম মেকানিক্সের তত্ত্বগুলো শুধুমাত্র অণু-পরমানুর ক্ষুদ্র জগতেই প্রয়োগ করা যায় কিন্তু বৃহৎ বস্তু সমুহের বেলায় কোন কাজে আসেনা।

কিন্তু মহাবিশ্বে তো কোন অসংগতি নেই বরং সবকিছু নিখুঁতভাবে সমন্বিত। মোট কথা মহাবিশ্বের সবকিছুই আন্তঃসম্পর্কিত। অতএব সবকিছু ব্যখ্যার জন্য একের অধিক তত্ত্ব ব্যবহার করা নীতিগতভাবে অযৌক্তিক এবং পদার্থ বিজ্ঞানের তত্ত্ব সমুহকে অবশ্যই স্থান-কাল-বস্তু-গতি নিরপেক্ষ হতে হবে।

বিষয়টাকে এভাবে বর্ণনা করা যায়- একটি জগতের জন্য একজনের বেশি সৃষ্টিকর্তা কিংবা নিয়ন্ত্রনকর্তা থাকা অসম্ভব। যদিও ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে বিজ্ঞান মহলে বিতর্ক আছে, আমরা সে বিতর্কে এখন যাবনা; গুরুত্বপূর্ণ কথাটি হল যদি ঈশ্বরের অস্তিত্ব সত্যিই থাকে তবে তিনি অবশ্যই এক এবং অদ্বিতীয়। তেমনি আমাদের মহাবিশ্ব যদি সত্যিই নিয়মের অধীন হয় তবে সেই সব নিয়মাবলী অবশ্যই একটিমাত্র তত্ত্বেরই অন্তর্ভক্ত। অর্থাৎ যৌক্তিকভাবে একটি মহাবিশ্বের জন্য একটি মাত্র তত্ত্বই যথেষ্ট এবং কোনভাবেই একাধিক তত্ত্ব নেই।

এই একটিমাত্র তত্ত্বের নামই হল ‘মহান ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব’ আর এই মহান তত্ত্বের মাধ্যমেই একত্রিত হবে সমগ্র পদার্থবিজ্ঞান। ঐক্যবদ্ধ তত্ত্বের নিয়মগুলো হবে নিখুঁতভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সেই সব নিয়মাবলী মহাবিশ্বের সর্বত্র সকল প্রকার বস্তু/কণার ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে। ঐক্যবদ্ধ তত্ত্বের কাজ হল অণু-পরমানু গঠনকারী শ’খানেক মৌল কনিকা এবং তাদের মধ্যে ক্রিয়াকারী চারটি মৌলিক বলের মধ্যকার সকল প্রকার মিথষ্ক্রিয়া গাণিতিক ভাবে বর্ণনা করা। তাহলে আমরা আমাদের পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বের সব রহস্যের জট খুলতে পারবো। কারন মহাবিশ্বে যা কিছু ঘটে তার মূলে রয়েছে এই সব মৌলকণিকা এবং তাদের মাঝে ক্রিয়ারত চারটি মাত্র মৌলিক বল।

2 like 0 dislike
answered Feb 2, 2014 by আজাদ (4,233 points)

পদার্থবিজ্ঞানকে একত্রীকরনের ঐতিহাসিক পটভুমি
মধ্যযুগের বিখ্যাত মুসলিম মনীষী আল বেরুনী বলেছিলেন, জগত কিছু নিয়মের অধীন এবং মহাবিশ্বের সর্বত্র পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মাবলী একই রকম হবে। পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা আল বেরুনীর কল্পনাকে সম্পূর্ণ দার্শণীক মতবাদ বলে আখ্যায়িত করেন। কারন পদার্থবিজ্ঞান বলতে যা বুঝায় তা তখনো শুরুই হয়নি।

গ্যালিলিওকে আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের জনক বলা হয়। তিনি তার পড়ন্ত বস্তুর বিধিগুলির দ্বারা সর্বপ্রথম স্থান-কাল নিরপেক্ষ প্রাকৃতিক আইন সম্পর্কে মানব জাতিকে অভহিত করেন। গ্যালিলিও যে বছর মৃত্যুবরণ করেন সেই বছরই জন্ম হয় বিজ্ঞানের সম্রাট স্যার আইজাক নিউটনের। নিউটন তার গতির তিনটি সূত্র এবং সার্বজনীন মহাকর্ষ তত্ত্বে গ্যালিলিওর পড়ন্ত বস্তুর সূত্রগুলিকে পূর্ণাংঙ্গ রুপ দেন। নিউটন দেখিয়েছিলেন যে আপেল যে নিয়মে মাটিতে পড়ে সেই একই নিয়মে চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে এবং সকল গ্রহ নক্ষত্রের বেলাতেও সেই একই নিয়ম প্রযোজ্য।

নিউটনের মৃত্যুর দেড়’শ বছর পর মাইকেল ফ্যারাডে এবং অ্যাম্পিয়ার আবিষ্কার করেন যে বৈদ্যুতিক চার্জ গতিশীল হলেই চৌম্বকের সৃষ্টি হয়। এটা ছিল প্রকৃতির নিয়মসমুহের একত্রীকরণের দ্বিতীয় সার্থক পদক্ষেপ। বিদ্যুৎ ও চৌম্বক শক্তিকে আপাত দৃষ্টিতে ভিন্নরকম মনে হলেও ফ্যারাডে-অ্যাম্পিয়ার পরীক্ষণের মাধ্যমে এদের মধ্যকার সম্পর্ক সুস্পষ্ট করেন।

পরবর্তীতে বিখ্যাত বিজ্ঞানী জেম্স ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল চারটি সুত্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও চৌম্বক শক্তিকে সম্পুর্ণ রুপে একত্রিত করেন এবং প্রমাণ করেন যে বিদ্যুৎ চার্জকে ত্বরিত করলে যে বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ মহাশুণ্যে ছড়িয়ে পড়ে তা আসলে তাপ ও আলো ছাড়া কিছুই নয়। ফলে তড়িৎ-চৌম্বক বলের সাথে তাপ ও আলোরও একত্রীকরন সম্ভব হল।

এরপর ১৯০০ সালে জার্মান বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্লাঙ্ক তার যুগান্তকারী কোয়ান্টাম তত্ত্ব হাজির করেন। এই কোয়ান্টাম তত্ত্বের মাধ্যমেই মূলত পদার্থ বিজ্ঞানের পূণঃজন্ম হয়। ১৯০৫ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্কের স্বদেশী বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনষ্টাইন তার বিষেশ আপেক্ষিকতার তত্ত্ব প্রকাশ করেন।

অণু-পরমাণুর ক্ষুদ্র জগতের প্রায় সবকিছু বর্ণনা করার জন্য যে সকল তত্ত্ব ব্যবহার করা হয় তার প্রায় সবগুলোই দাঁড়িয়ে আছে প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব এবং আইনষ্টাইনের বিষেশ আপেক্ষিক তত্ত্বের উপর। প্রধানত এই দুটি তত্ত্বের উপর নির্ভর করেই মৌলিক বল সমুহকে একত্রীকরনের ব্যপারে ব্যপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

মহান বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনষ্টাইন পদার্থবিজ্ঞানকে একত্রীকরণের জন্য মৃত্যুর পূর্বমহুর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করে গেছেন। কিন্তু তিনি সফল হননি তার প্রধান কারন সে সময় কেবল মহাকর্ষ ও তড়িৎ-চৌম্বক বলের কথাই জানা ছিল; দুর্বল এবং সবল পারমানবিক বল দুটি তখনও আবিষ্কৃত হয়নি। মৌলিক বল সমুহকে একত্রীকরনের মাধ্যমে সমগ্র পদার্থ বিজ্ঞানকে একত্রীত করাই ছিল আইনষ্টাইনের অন্তিম স্বপ্ন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে পদার্থ বিজ্ঞানের একত্রীকরণের মূলমন্ত্র লুকিয়ে আছে স্থান-কালের গঠনের ভেতরে।

আইনষ্টাইনের মৃত্যুর পর সালাম, ওয়াইভার্গ, গ্লাশো, পিটার হিগ্স সহ বেশ কয়েকজন পদার্থ বিজ্ঞানী মিলে মহাকর্ষ বল বাদে বাকি তিনটি বলকে মোটামোটি একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গড়ে উঠেছে ‘স্ট্যান্ডার্ড মডেল’ যেখানে মৌল কনিকাসমুহ ও এদের মাঝে ক্রিয়ারত তিনটি বল কোনরকম একই পতাকাতলে আবদ্ধ করা হয়েছে।

2 like 0 dislike
answered Feb 2, 2014 by আজাদ (4,233 points)
ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব আবিষ্কারের পথে প্রধান প্রতিবন্ধকতা কোথায়? বাস্তবতা সম্পর্কে সঠিক ধারণার অভাব-ই ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব আবিষ্কারের পথে প্রধান অন্তরায়। আমরা খোলা চোখে যা দেখি, অনুভব করি সেটাকেই বাস্তবতা মনে করি। এবং এই দৃশ্যমান বাস্তবতার উপর নির্ভর করেই আমাদের চিন্তা চেতনা বিকশিত হয়। কিন্তু আমরা সাধারন ভাবে যেমনটি ভাবি বাস্তবতা সত্যিকার অর্থে তেমন নয়। যেমন আলোর গতি উৎস বা পর্যবেক্ষকের আপেক্ষিক গতির উপর নির্ভরশীল নয়, আলোর গতি একটি ধ্রুব রাশি। আমাদের সাধারন অভিজ্ঞতার সাথে এটাকে কোনক্রমেই মেলানো যায়না। এরকম অসংখ্য নজির আছে যা আমাদের সাধারণ বাস্তবতার সাথে মিলেনা। স্টিফেন হকিং বাস্তববাদ কে একটি প্রলোভনকারী দৃষ্টিভঙ্গী বলে উল্লেখ করেছেন কারন কণা পদার্থবিজ্ঞান সম্পর্কে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে তার দ্বারা বাস্তববাদকে সমর্থন করা যায়না। দ্বিতীয়ত; বেশ কয়েকটি ভূল/আংশিক তত্ত্বের সাথে কাকতলীয়ভাবে একাধিক পর্যবেক্ষণ ফল মিলে গেছে যা বিজ্ঞানীদের ভুল পথে নিয়ে যাবার জন্য যথেষ্ট। মোটকথা পদার্থ বিজ্ঞানকে একত্রীকরণের জন্য প্রায় সব বিজ্ঞানীই নতুন রুপে চিন্তা করার পরিবর্তে প্রচলিত তত্ত্বগুলোর সাহায্য নিয়ে কাজ করেন। তাই ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব এখনো ধরাছোয়ার বাইরের রয়ে গেছে।
2 like 0 dislike
answered Feb 2, 2014 by আজাদ (4,233 points)
ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব আবিষ্কারের ব্যপারে কতটা অগ্রগতি সাধিত হয়েছে? স্ট্যান্ডার্ড মডেলের সীমাবদ্ধতা সমুহ দূরীকরণের লক্ষে বিজ্ঞানীরা মোট পাঁচটি তন্তু তত্ত্ব (স্ট্রিং থিওরি) গড়ে তোলেন। তন্তু তত্ত্বের মূল বক্তব্য হল আমাদের পরিচিত মৌল কণিকা সমুহ আসলে একপ্রকার অতি ক্ষুদ্র তন্তুর কম্পন ছাড়া কিছুই নয়। একটি বেহালাতে যেমন বিভিন্ন স্বর সৃষ্টি করা যায় তেমনি ষ্ট্রিং বা তন্তু সমুহের বিভিন্ন প্রকার কম্পনের ফলে ভিন্ন ভিন্ন মৌলিক কণিকার সৃষ্টি হয়। এরপর এই পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন তন্তু তত্ত্বকে সমন্বয় করে একটি তত্ত্ব তৈরি করা হয় যার নাম ‘এম-থিওরি’। এম-থিওরি প্রকৃত পক্ষে এমন একটি তত্ত্ব যেখানে বহুসংখ্যক তত্ত্ব একটি তত্ত্বের অংশ হিসেবে কাজ করে। এভাবে এই থিওরির মাধ্যমে মোটামোটি সবকিছুই বর্ণনা করা যায়। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং এর মতে- “এম-থিওরিই হল বহুল প্রত্যাশিত সেই ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব”। কিন্তু অনেক বিজ্ঞানীই এম-থিওরিকে শুধুমাত্র দর্শণের বিষয় বস্তু হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কারন এই তত্ত্বের কোনকিছুই এখন পর্যন্ত পরীক্ষাগারে প্রমান করা সম্ভব হয়নি। কাজেই ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব হিসেবে আমরা যা বুঝি এম-থিওরি আসলে সেরকম কিছু নয়। তবে সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ তত্ত্বে অবশ্যই এম-থিওরির দু-একটি নীতি অন্তর্ভূক্ত থাকবে এ বিষয়ে অনেক বিজ্ঞানীই একমত।

4,677 questions

5,802 answers

1,861 comments

16,023 users

94 Online
0 Member And 94 Guest
Most active Members
this month:
  1. Reduan Hossain Riad - 1 points
  2. The Rysul - 1 points
Gute Mathe-Fragen - Bestes Mathe-Forum
...