Welcome to Zero to Infinity Q&A. To ask questions or answer any question please Register first. Thank You.

বিজ্ঞান বই রিভিউ প্রতিযোগিতা ২০১৫

12 like 0 dislike
1,104 views
asked Aug 10, 2015 in Idea Box by জিরো টু ইনফিনিটি (1,656 points)
1% Accept Rate

edited Aug 13, 2015 by Abdullah Al Mahmud

দেশের বিজ্ঞান বইগুলোর একটি ভালো রিভিউ আর্কাইভ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আমাদের এই বিজ্ঞান বই রিভিউ প্রতিযোগিতার আয়োজন। আপনি যদি সম্প্রতি কোনো বাংলা বা ইংরেজি বিজ্ঞানের বই কিংবা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি বই পড়ে থাকেন তবে সে বইয়ের রিভিউ জমা দিতে পারেন এই প্রতিযোগিতায়।

নিয়মাবলী

 

  • রিভিউ লিখে এই পোস্টে Answer এ পোস্ট করতে হবে। Answer এ পোস্ট করার আগে লগইন করে নিন।
  • রিভিউ লেখার সময় প্রথমে বইয়ের নাম এবং লেখকের নাম দিতে হবে। এরপর সে বইয়ের রিভিউ দিতে হবে। সম্ভব হলে সে বইয়ের একটি প্রচ্ছদ এখানে ছবি আকারে আপলোড করতে পারেন।
  • শুধুমাত্র বাংলায় রিভিউ করা যাবে।
  • কেবলমাত্র মৌলিক রিভিউগুলোই এ প্রতিযোগিতার জন্য বিবেচ্য হবে।
  • রিভিউ নিজ নামে লেখা আবশ্যক। ছদ্মনাম গ্রহণযোগ্য হবে না।
  • একজন একের অধিক রিভিউ করতে পারবেন।
  • একই বইয়ের রিভিউ অনেকে করতে পারবেন।
  • রিভিউ লিখে উত্তরের লিঙ্ক ফেসবুকে শেয়ার করতে হবে।

 

সময়সীমাঃ ১০ আগস্ট, ২০১৫ - ৩১ আগস্ট, ২০১৫।


 

পুরষ্কার

 

  1. জুরি অ্যাওয়ার্ড: Zero to Infinity World​ থেকে ১৫০০ টাকা সমমূল্যের বই ও ম্যাগাজিন।
  2. পিপল চয়েজ অ্যাওয়ার্ড: ব্লু-বেল (http://bluebellbd.com) এর সৌজন্যে একটি 3G মডেম।
  3. এছাড়া প্রথম ১০ জন রিভিউকারী পাবেন সেপ্টেম্বর মাসের জিরো টু ইনফিনিটি, পাই জিরো টু ইনফিনিটি এবং হেলথ জিরো টু ইনফিনিটি ম্যাগাজিন।

 

[জুরি অ্যাওয়ার্ড দেয়া হবে জুরি বোর্ডের দেয়া রায় অনুসারে। পিপল চয়েজ অ্যাওয়ার্ড দেয়া হবে আপ ভোট ও ডাউন ভোটের সমষ্টি হিসেব করে।]

 

তো দেরি কেন? আজই লিখে ফেলুন। যেকোনো প্রয়োজনেঃ [email protected], ০১৬২৬১২১৪৩৬।

Share at -
commented Aug 14, 2015 by **কৌতুহলী** (1,558 points)
edited Aug 14, 2015 by **কৌতুহলী**
রিভিউ লিখে উত্তরের লিঙ্ক ফেসবুকে শেয়ার করা কি আবশ্যক ?

 আমি ফেসবুক ব্যবহার করি না, তাহলে আমি তো রিভিউ ফেসবুকে শেয়ার করতে পারব না।।
commented Aug 14, 2015 by Mr.Durjoy (2,086 points)
Moulik review ki?eta bujhlam na.
commented Aug 14, 2015 by **কৌতুহলী** (1,558 points)
ইন্টারনেট ঘাটলে আপনি যেকোন ভাল বইয়ের অসংখ্য রিভিউ পাবেন। মৌলিক রিভিউ মানে হল আপনি সেসব জায়গা থেকে বইয়ের রিভিউ কপি-প্রেস্ট করে ব্যবহার করতে পারবেন না।

আপনাকে সম্পূর্ণ নিজের মনের মত করে সঠিক তথ্যসমৃদ্ধ  রিভিউ লিখতে হবে। ( বাংলা সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরের মত করে )
commented Aug 14, 2015 by Abdullah Al Mahmud (2,187 points)
ফেসবুকে শেয়ার করার অর্থ হচ্ছে বন্ধুদের বলা। ফেসবুক না থাকলে অন্য বন্ধুদের রেফার করে সবাইকে পার্টিসিপেট করতে বইলো।
commented Aug 15, 2015 by Mr.Durjoy (2,086 points)
Ekhane oneker ekadhik id thakte pare.tara to khub shohojei peoples choice award peye jabe.tader khetre ki vabchen?
commented Aug 15, 2015 by Abdullah Al Mahmud (2,187 points)
কতগুলো থাকতে পারে সর্বোচ্চ ৫টা বা ১০টা! এজন্যই তো বাকিদেরও সুযোগ আছে ফেসবুকে শেয়ার করে বন্ধুদের ভোট দেয়ার জন্য বলা। এরকম সিস্টেমে এটা ট্যাকল দেয়ার আর উপায় নাই।

7 Answers

5 like 0 dislike
answered Aug 20, 2015 by Arnab Paul (118 points)
edited Aug 20, 2015 by সিরাজাম মুনির শ্রাবণ

The Code Book: The Science of Secrecy from Ancient Egypt to Quantum Cryptography

 

Simon Singh

 

 

পড়ে শেষ করলাম Simon Singh এর The Code Book: The Science of Secrecy from Ancient Egypt to Quantum Cryptography. বইটির সন্ধান পাই গুডরিডস ঘাঁটাঘাঁটি করতে করতে। Cryptography; অর্থাৎ আপনার তথ্যকে সর্বসাধারণের আড়ালে রেখে সংরক্ষণ ও প্রাপককে সরবরাহ করার বিদ্যা নিয়ে এই বই। হাজার বছর আগের রাজা বাদশাদের আমল থেকে Cryptography-র চর্চা শুরু, যার স্রোত এখন আপনার সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে সেলফোনের রিচার্জ কার্ডের ব্যবহারে চলছে সদর্পে! চারশো পৃষ্ঠার এই বইটিতে Cryptography-র রোমাঞ্চকর ইতিহাস, বিকাশের রাজনীতিক পটভূমি ছাড়াও এর গাণিতিক সৌন্দর্যের সুখপাঠ্য বর্ণণা আছে। গণিতের অংশগুলো খটমটে নয় মোটেই, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বিন্যাস-সমাবেশ, সংখ্যাতত্ত্বের সাধারণ ধারণা থাকলেই যথেষ্ট।


বইয়ের শুরু রাণী এলিজাবেথের হাতে স্কটিশ রাণীর Encryption-সংক্রান্ত ফ্যাসাদে পড়ে করুণ মৃত্যুদণ্ডের কাহিনি দিয়ে, শেষ হয়েছে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি Quantum Cryptography সম্ভাবনায়।


প্রাচীনকালে রাজা বাদশারা শত্রুরাজ্য পার হয়ে মিত্রের কাছে গোপন খবর পাঠাতে Cryptography-র আশ্রয় নিতেন। শুরুতে চর্চাটা ছিল শুধু লুকানোতে, অর্থাৎ Steganography. স্পাই-এর মাথা কামিয়ে সেখানে মেসেজ লিখে চুল গজানোর পর পাঠানো হতো, শত্রুর হাত থেকে তথ্য বাঁচাতে। খোলস অবিকৃত রেখে সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশে লেখার পদ্ধতিও আবিষ্কার তখনি! পুরো বই জুড়েই 'কথা-লুকানো' বিদ্যার দুর্দান্ত সব কাহিনি, পাশাপাশি তা থেকে তথ্য বের করার কৌশলের কথা। বাৎস্যায়ন তাঁর কামসূত্রেও উল্লেখ করে গেছেন এর কথা, নারীদের জন্য নির্ধারিত ৬৪ কলার ৪৫ নম্বরে আছে এই বিদ্যা,"ম্লেচ্ছিকা-বিকল্প"!


ঐতিহাসিক সে কাহিনি, Code maker ও Code breaker দের যুদ্ধ। প্রথমদিকে চলত বর্ণের প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে Monoalphabetic Encryption, মানে নির্দিষ্ট সংখ্যক অক্ষর শিফ্‌ট করা; a এর জায়গায় d, b -র বদলে e এভাবে। এ নিয়মে এক বর্ণ শিফট করে "ANT" কে লিখতে হবে "BOU"। অর্থাৎ ইংরেজি ছাব্বিশটি অক্ষর একে একে শিফট করে টেস্ট করলেই বেরিয়ে আসবে আসল মেসেজ। দিনে দিনে Cryptography কঠিন হতে লাগলো। Code maker-রা বর্ণ প্রতিস্থাপন এর পরিবর্তে Randomly বর্ণ নির্ধারণ করলেন এবারে। অর্থাৎ প্রেরক ইচ্ছেমতো বর্ণ ধরবেন, যার এক কপি থাকবে প্রাপকের কাছে। এবারে সহজে মেসেজ বের করার পদ্ধতি আর চলছে না।


কিন্তু মানুষের বুদ্ধিচর্চার Legecy টা এখানেই, পরিসংখ্যান বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেই টেক্সটও পাঠের পদ্ধতিও বের করলেন Code breaker-রা। প্রতিটা ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে সুনির্দিষ্ট কিছু ধ্বনি বেশি ব্যবহৃত হয়। যেমন ইংরেজিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় "e", তারপর "a", "t" ইত্যাদি। এভাবে বর্ণ বের করার পদ্ধতির নাম Frequency Analysis. আরবেরা এই পদ্ধতির জনক। ধর্মগ্রন্থে কোনো কোনো শব্দ কতবার ব্যবহার হয়েছে, এই চর্চার মাধ্যমে পদ্ধতিটির আবিষ্কার (আল-শব্দটা বেশি ব্যবহার হয়, তাই‌ সংশ্লিষ্ট ধ্বনিগুলোর বাহুল্য থাকবে এখানে)।


এবার একটা সাধারণ পদ্ধতির কথা বলছি। একটা ইংরেজি Encrypted Text ধরে নিন। আলোচ্য পদ্ধতিটির সাহায্যে কোন বর্ণ বেশি ব্যবহৃত হয়েছে, তার একটা হিসেব করে আমরা "e" কোনটা বের করে নিতে পারি। স্যাম্পল হিসেবে Text থেকে বেছে নিচ্ছি তিন অক্ষরের এমন একটা শব্দ, যার শেষে ঐবর্ণটি অর্থাৎ যার আড়ালে লুকায়িত "e" আছে। এবার দেখবো দ্বিতীয় অক্ষরটিকে। পুরো Text এ যদি "e" এর পরে ঐ দ্বিতীয় অক্ষরটি না দেখা যায় তাহলে নিশ্চিতভাবেই বলে দেয়া যায়, অক্ষরটি "h" এবং শব্দটা "The". পুরো ইংরেজি ভাষায় খুব বেশি শব্দ নেই যেখানে "e" এর পর "h" বসে। এভাবে ঐ বর্ণগুলো প্রতিস্থাপন করলেই আসল মেসেজের চেহারা বের হতে শুরু করবে। বাকিটা ভাষাবিদদের কাজ। বইয়ে পুরো এক অধ্যায় জুড়ে ধাপে ধাপে একটা গুপ্তবার্তা বের করে দেখানো হয়েছে, যা কোনোভাবেই রহস্যোপন্যাসের কাহিনীজট ছাড়ানো থেকে চেয়ে কম নয়।

 

ছোটবেলায় এডগার এলান পো'র The Gold Bug এ এরকম পদ্ধতিতে গুপ্তধন বের করার কথা পড়েছিলাম, যদিও তখন কিছু বুঝিনি। ঐ অধ্যায়টা পড়ার পর পুরোনো প্রশ্নের উত্তর পেয়ে চমৎকৃত হয়েছি! চার্লস ব্যবেজ ও স্যার হুইটস্টোন (সার্কিটের Wheatstone Bridge-খ্যাত) এরকম Cryptanalys এ সুপারদর্শী ছিলেন। তাদের এক মজার ঘটনা না উল্লেখ করলেই নয়। ভিক্টোরিয়ান ইংল্যান্ডে প্রেমিক-প্রেমিকার অবাধ ভালোবাসার আদান প্রদানটাকে ঠিক সহজভাবে নেয়া হত না। পরিবারের কেউ যেন না জানতে পারে, তাই পত্রিকার ব্যক্তিগত কলামে Encryption এর মাধ্যমে প্রেমপত্রের আদান-প্রদান হবার ট্রেন্ড চালু হয়েছিল তখন!


স্যার হুইটস্টোন একদিন The Times পত্রিকায় অক্সফোর্ডের এক ছাত্রের প্রেমিকাকে লেখা চিঠির পাঠোদ্ধার করেন, দেখেন সেখানে লেখা পালিয়ে বিয়ে করার কথা। পরের সংখ্যায় ঐ একই Encryption মেথড-এ তিনি বুঝিয়ে সুঝিয়ে লেখেন; দেখ বাবা, এভাবে পালিয়ে বিয়ে করাটাতো ঠিক না। পরের সংখ্যায় প্রেমিকা বেচারি সোজা-সাপ্টা ইংরেজিতে লিখে বসেন, "Dear Charlie, write no more. Our cipher is discovered."!


এভাবে অসংখ্য রকম ধাঁধা তৈরি ও ভাঙানোর ঘটনা ইতিহাসে জ্বাজল্যমান। হাতে কলমে লেখার ব্যাপারটা উঠে গেল রেডিয়ো-যোগাযোগ ব্যবস্থার আবিষ্কারের মাধ্যমে। Cryptography-র সবচেয়ে গুরুত্‌বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে পরে। জয় পরাজয় নির্ধারণে গুপ্তবার্তাই হয়ে দাঁড়ায় প্রধান নিয়ামক। আমেরিকা ও ব্রিটেন Cryptography-র দৌড়ে তখনও এগিয়ে, এর মাধ্যমেই বিজয় ত্বরান্বিত হয়। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানবাহিনী নামে দুর্লংঘ্য "Enigma" নিয়ে। সে সময়কার রোমহর্ষক ইতিহাসের শ্বাসসরুদ্ধকর বর্ণনা আছে বইটিতে। সে ইতিহাস শীতল স্নায়ুযুদ্ধের, মর্মান্তিক ও একই সাথে চূড়ান্ত উত্তেজনাকর। ঐ সময়টাতেই Cryptography-র বিকাশটা হয় সবচেয়ে বেশি। ততদিনে Cryptography-টা আর ভাষাবিদদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং গণিতবিদ, দাবাড়ু, বিজ্ঞানীদের প্রাধান্যে এগিয়ে চলছে দ্রুতগতিতে। অপ্রতিরোধ্য "Enigma"কেও হার মানান Bletchley Park এর বিজ্ঞানী, গণিতবিদেরা, যার অন্যতম নায়ক অ্যালান টুরিং! তিনিই প্রথম কম্পিউটারের রূপকার, মেকানিকেল ডিভাইসের মাধ্যমে এর তৈরি। পরবর্তীতে তার উন্নয়ন করা হয় ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহার করে। কীভাবে পর্যায়ক্রমে যান্ত্রিক কাঠামো থেকে তাড়িতিক রূপ লাভ করে কম্পিউটার, ঐ অধ্যায়ও পড়লেই ধরা যায় স্পষ্ট। আরো আছে আদিম মিশরীয় ভাষা হায়ারোগ্লিফিক রহস্যভেদের কাহিনি।


আপনার ইমেইল, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট কতটুকু সুরক্ষিত? আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নজর রাখছে কি? USA-র National Security Agency (NSA) ওখানকার সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর প্রতি নি্যম আরোপ করেছে, বহির্দেশে বিক্রিত সফটওয়্যারের সিকিউরিটি যেন এমন না হয় যে, তারা তা Break করতে না পারে! এর পক্ষে তারা যুক্তি হাজির করে টেররিস্টচক্রের চক্রান্ত-পূর্বাভাস পাবার অজুহাত দেখিয়ে। যদিও নথি ঘেঁটে দেখা যায়, অনেক সময়ই ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্টরা এই আড়িপাতাকে ব্যবহার করেছেন বিপক্ষদলের দূর্বলতাকে অস্ত্র হিসেবে পেতে। সেক্ষেত্রে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্নে আমাদের মতো দেশের মানুষের অবস্থানটা তাহলে কোথায়?

 

ইতিহাস, বিশ্বরাজনীতি, গণিত, প্রযুক্তিপ্রেমিদের জন্য অবশ্যপাঠ্য এই বই।

commented Aug 22, 2015 by swapnil0025 (121 points)
অসাধারন!!!! ১০ এ ৯ :-)
commented Apr 8 by Asraf (100 points)
বইটা বাংলা নাকি ইংরেজিতে লেখা। বইটা কোন প্রকাশনীর । কোথায় পাওয়া যাবে।
5 like 0 dislike
answered Aug 20, 2015 by Arnab Paul (118 points)
edited Aug 20, 2015 by সিরাজাম মুনির শ্রাবণ

Why is Sex Fun?: The Evolution of Human Sexuality

Jared Mason Diamond

 

 

নামটি খুবই রগরগে। মাতৃভাষায় এ বিষয় নিয়ে লেখায় শব্দচয়নটা বেশ বেসামাল হবে, টের পাচ্ছি। Why is Sex Fun?: the evolution of human sexuality; Jared Mason Diamond এর বই, মানুষের যৌনতার বিবর্তন নিয়ে, ১২৮ পৃষ্ঠার। 

 

আড্ডার ছলে বইটির শুরু, সেভাবেই বলে যাই। ধরুন আপনার পোষা কুকুরকে বাগ্‌শক্তি আর আপনার মতো একটা উন্নত মস্তিষ্ক দেয়া হলো। এখন তাকে যদি মানুষের যৌনপ্রবৃত্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তো অপার বিস্ময়ের সাথে তার মন্তব্য যা যা থাকবে:

  • মানুষের যৌনতার কোনো নির্দিষ্ট ঋতু বা সময়গময় নেই।
  • সন্তান না হবার সম্ভাবনা থাকলেও তোমাদের যৌনতা থামে না।
  • স্বাভাবিক উর্বরতা বয়সের সাথে কমে গেলেও যৌনতা চলতেই থাকে।

 

এই বৈশিষ্ট্যগুলো শুধু মানুষের জন্যেই স্পেশাল, প্রাণিজগতের অন্যান্য প্রায় সকল প্রাণীর যৌনতার মূল কারণ সন্তান জন্মদান, তাও নির্দিষ্ট ঋতুতে! কেন মানুষের Sexual behaviour এতটা উদ্ভট? বই পড়ার ইচ্ছে থাকলে আগেই বলে নিচ্ছি, স্পয়লার নিজ নিজ দায়িত্বে। এই প্রশ্নগুলোরই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে বইটিতে। কিছু মজার ফ্যাক্ট নিয়ে আলোচনা করছি, সংক্ষেপিত করে করতে হচ্ছে বলে অস্পষ্ট থেকে যাবার সুযোগ আছে, মনমতো পুরো ব্যাখ্যা পাবার জন্য বই পড়ার বিকল্প নেই।


*** খুব সাধারণভাবে আমরা বলি, সকল প্রাণীর কাজের মূল প্রেরণা বেঁচে থাকা অর্থাৎ Survival. প্রাণিজগতে কিছু প্রাণীর মধ্যে Sexual Cannibalism দেখা যায়। এর মানে হচ্ছে যৌনমিলনের সময় স্ত্রী প্রাণী পুরুষটিকে খেয়ে ফেলে! যেমন কিছু প্রজাতির মাকড়শায় এ্মন দেখা যায়। এমন না যে স্ত্রী-প্রাণীর থেকে পালানোর চেষ্টা করে। বরং দেখা গেছে, মাথা ঘাড় মুখের সামনে ঠেলে খেতে সুবিধা করে দেয়! তো এসব ক্ষেত্রে Survival এর ব্যাখ্যা কতটুকু গ্রহণযোগ্য?

 

এর গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যাটি হলো- পুরুষ মাকড়শার প্রবণতা থাকে সর্বোচ্চ সংখ্যক Sperm এর নিষেক ঘটানো। তো এর জন্যে স্ত্রী মাকড়শার দরকার অতিরিক্ত পুষ্টি, যা ঐ পুরুষ মাকড়শা নিজ শরীর থেকে সরবরাহ করে। হয়তো পুরুষটি স্বজাতির স্ত্রী আবার না-ও পেতে পারে, মারাও পড়তে পারে। তো ঐ একবার সঙ্গমের সময়েই উদ্দেশ্য থাকে তার সর্বোচ্চ সংখ্যক ডিম্বাণু নিষেকের! গুছিয়ে বললে, সকল কর্মের মূল প্রেরণা হচ্ছে, সফলতার সাথে পরবতী প্রজন্মে Gene Transfer করা!

 

*** সন্তান জন্মের পর Parental care কে নেবে? পিতা, মাতা নাকি উভয়েই; এটা প্রাণিজগতে Natural selection এর অন্যতম জটিল বিষয়। প্রাণীভেদে শুধু পিতা, শুধু মাতা, মাতা-পিতা কেউই না এবং উভয়ের পরিচর্যা; সবরকমের নিদর্শনই পাওয়া যায়। এটা মোটামুটি তিনটা ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে। এক, কে কতটুকু বিনিয়োগ করলো। দুই, সন্তান পরিচর্যার ফলে অন্যকোথাও সঙ্গমের সুযোগ থাকছে কিনা। তিন, নিজের পিতৃ-মাতৃত্বের নিশ্চয়তা।


উভচর ও জলজ অনেক প্রজাতির ক্ষেত্রে নিষেক ঘটে মাতৃদেহের বাইরে। সেজন্য, Parental care মাতা ও পিতার যে কেউ হতে পারে, ক্ষেত্রবিশেষে ক্ষেত্রে কেউই না। তুলনামূলক জটিল জনন প্রক্রিয়ার প্রাণী Placenta-যুক্ত Mammal, এদের ক্ষেত্রে যেহেতু মাতৃ-দেহাভ্যন্তরে নিষেক ও বৃদ্ধি ঘটে, তাই প্রাণীর যত্ন, স্তন্যদানের বিষয়টা মায়ের ওপরই বর্তায়, Natural selection অনুযায়ী। মানুষের ক্ষেত্রে কেন পিতার চেয়ে দৃশ্যত মায়ের care বেশি এবং জন্মের পর পিতার তুলনামলক বেশি সরে যাবার ঘটনা দেখা যায় তা জন্মকালীন বিনিয়োগ থেকে আঁচ করা যায়।

 

সুবৃহৎ ডিম্বাণু দানকারী মা, নয় মাস দেহের ভেতর নিজের পুষ্টিতে লালন করে সন্তানকে। অপরদিকে পিতা একবার সঙ্গমে ক্ষুদ্রতম একটি Sperm দিয়েই শেষ (কোটি কোটি বেহুদা নষ্ট হয় অবশ্য)! সেজন্য জন্মের পর অনেক সময় পিতার ছেড়ে যাওয়াটা সমাজে বেশি দৃশ্যমান হলেও মায়ের ক্ষেত্রে একান্তই দেখা যায় না! দ্বিতীয় কারণটিও মা-এর বিপরীত। স্তন্যদানকালীন সময়ে আবার সঙ্গমে সন্তান জন্মদান সম্ভাব্যতা মায়েদের নেই, Natural selection-এ আবারো মা'র ছেড়ে যাবার সুযোগ কমে যায়। তৃতীয় কারণটি, পুরুষ-প্রাণী সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে তার নিজের সন্তান কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারে না,তার সঙ্গিনীর গর্ভে কি তারই সন্তান?
গুহামানবের সময়কাল চলে আসা এই সন্দেহ পুরুষ-মানসে Genetically programmed. অন্যের Gene লালনের কোনো সদিচ্ছা তার নেই।


*** মানুষের যৌনতার আরেকটি অনন্য বিষয় Concealed ovulation, নারীদেহে এমন কোনো বাহ্যিক পরিবর্তন খেয়াল করে বোঝার উপায় নেই যে ঠিক এই সময়ে Intercourse-এ সন্তান জন্ম দেবে। অন্যান্য প্রাণির স্ত্রী-প্রজাতির ক্ষেত্রে তখন দৈহিক পরিবর্তন লক্ষণীয়। শিম্পাঞ্জীসহ অন্যান্য প্রাণীদের দেহে এর আভাস দেখা গেলেও মানুষের দেহে বিবর্তনের ফলে এটি এখন উহ্য। এর কারণ পূর্বোক্ত দুই ও তিন নম্বর ফ্যাক্টর।

 

এর একটা তত্ত্বের কথা বলছি। মানব-সন্তান immature হয়ে জন্মায়, ফলে এক্ষেত্রে পিতা-মাতা উভয়ের care দরকার সন্তানের Survival এর জন্যে। ভেবে দেখুন, গুহামানব যদি জানতে পারতো যে ঠিক এই সময়ে Intercourse করলে সন্তান জন্ম নেবে, তবে বাকি সময় সে ঐ সঙ্গিনীর পেছনে নষ্ট না করে অন্য কারো পেছনে বিনিয়োগ করত। ফলে গুহামানবীকে তার সন্তান টিকিয়ে রাখার জন্য যে খাদ্য ও নিরাপত্তার Care এর দরকার হতো, তা পেতো না। অপরদিকে গুহামানবও নিশ্চিন্ত যে তার অনুপস্থিতিতে অন্য কারোর Intercourse-এ সন্তান জন্মের সম্ভাবনা নেই। পুরুষের এই polygamous প্রবৃত্তি রোধ করতে Natural Selection আশ্রয় নিল Concealed Ovulation এর। ফলে পুরুষের নিশ্চিত হওয়ার সুযোগও কমে গেল, সেইসাথে নিশ্চিন্তে থাকারও! Period এর পর ছাড়া বাকি সময়টুকু কম-বেশি যা-ই হোক, নিষেকের সুযোগ তাই থেকে যায়। মোটাদাগে এটাও Recreatioonal Sex এর অন্যতম কারণ।

3 like 0 dislike
answered Aug 19, 2015 by সিরাজাম মুনির শ্রাবণ (205 points)

মিথ্যার মুখোমুখি প্রতিদিন

লেখকঃ মুনির হাসান

 

 

বইটা আলোচিত হয়েছে মূলত সমাজে বিদ্যমান কুসংস্কারকে নিয়ে। এই ধাঁচের বই বাংলায় খুব একটা দুর্লভ নয়। কিন্তু তারপরেও এই বইটি অন্যসব থেকে আলাদা। এখানে আলোচিত বিষয়গুলোর প্রায় সবই আমাদের বাংলাদেশের সমাজের মাঝে প্রচলিত সংস্কার কুসংস্কারকে কেন্দ্র করে।

 

যেমন আমাদের সমাজে কেও খাবার সময় তার হিক্কা-হাঁচি ওঠলে ধারণা করা হয় দূর থেকে কেও বুঝি তার নাম নিয়েছে, আর নামটা খারাপ উদ্দেশ্যে নিয়েছে বলে খাবার সময় এই বাজে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এক শ্রেণির মানুষ আছে এই ব্যাপারটাকে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি দিচ্ছে। তারা বলছে ট্যালিপ্যাথির মাধ্যমে এই ধরনের ব্যাপার হতেও পারে। একজন অন্যজনের নাম নিলে তরঙ্গ আকারে তা ছড়িয়ে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে পৌঁছায়। :/  কতটা জ্ঞানপাপী হলে এইসব বলে বেড়াতে পারে। কিন্তু মূল সত্য হচ্ছে গলায় খাদ্যনালীর পাশাপাশি শ্বাসনালী অবস্থান করে। খাবার গ্রহণের সময় খাদ্য যদি ভুলে অন্ননালীর পরিবর্তে শ্বাসনালী দিয়ে ঢুকে পড়ে তাহলে এই অবস্থা হয়। খাবার শ্বাসনালী দিয়ে ঢুকলে শ্বাসরোধ হয়, এই অবস্থা কিছুক্ষণ থাকলেই মৃত্যু অবধারিত। এই খারাপ অবস্থা থেকে বাঁচার জন্য শরীরের এক নিজস্ব অবরোধ, হিক্কা-হাচির মাধ্যমে শ্বাসরোধ অবস্থা থেকে দেহকে রক্ষা করে। অবশ্যই এটা শরীরের খুব ভালো একটা দিক। লক্ষ লক্ষ বছরের বিবর্তনে মানুষ এই বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে। এ নিয়ে অন্য কেও খারাপ উদ্দেশ্যে নাম নিয়েছে তা ভাবার কোনো দরকার নেই।

এই ধরনের অনেকগুলো বিষয় লেখক তার বইতে তুলে এনেছেন। পড়তে মজার।

 

"মুনির হাসান" স্যারের এই ধরনের একটা বই থাকতে পারে তা ধারণাতে ছিল না। বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির অফিসে আসা যাওয়ার ফলে মুনির হাসান স্যারের সংস্পর্শে আসার সুযোগ হয়েছিল, যদিও তা খুবই সামান্য। স্যারের গণিতের উপর টুকটাক বই আছে। এই বিষয়ের উপর বই আছে জানতামই না। মুনির হাসান যদি এই ধরনের বই লেখাটা অব্যাহত রাখতেন তাহলে খুবই ভালো লাগতো।

 

ইদানীং মুনির হাসান খুব ব্যাস্ত, এই সংঘটন ঐ সংঘটন করতে হচ্ছে। বই লেখার সময় নেই বললেই চলে। বইটার ব্যপারে বলা যায় বিলুপ্তপ্রায় একটা বই। ১৯৯৪ সালে এই বইটা লিখেছিলেন। তখনকার সময়ের জন্য কতটা সাহসী কাজ ছিল আর কতটা লেখক কতটা অগ্রগামী ছিলেন, ভাবা যায়?

 

[বিঃ দ্রঃ লেখক বইটির স্বত্ব ত্যাগ করেছেন। বইটি এখান থেকে নামিয়ে পড়তে পারবেন।]

commented Aug 22, 2015 by swapnil0025 (121 points)
সুন্দর রিভিউ
3 like 0 dislike
answered Aug 23, 2015 by Abrar Fahim (143 points)
edited Aug 23, 2015 by Abrar Fahim
বৈঙ্গানিক কল্প কাহিনী সেরিনা মুহম্মদ জাফর ইকবাল জাফর স্যার বরাবরই আমার একজন প্রিয় মানুষ এবং লেখক তো বটেই। তার লিখা বেজি বইটা দিয়ে আমার বিঙ্গান কল্প কাহিন পড়তে শেখা। এর পর থেকে যতবারই আশা নিয়ে তার বই কিনতে গিয়েছি, তিনি কখনোই আমাকে নিরাশ করেন নি। সেরিনা ও তার ব্যাতিক্রম নয়। এই বইটিতেও জাফর স্যারের বৈঙ্গানিক কল্পকাহিনী লিখার নিপুনতা শতভাগ ফুটে উঠেছে। ঘটনার গভীরতা, সামাজিক প্রেক্ষাপট, লোমহর্ষকতা, বিঙ্গানের সংমিশ্রণ সব মিলিয়ে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বিঙ্গান কল্প কাহিনী। কাদা মাটি ভরা জলডোবা থেকে শুরু হওয়া গল্পের কাহিনী শেষ হয় বিশাল সমুদ্রের তীরে গিয়ে। গল্পে লেখক এমন একজন মেয়ের কথা তুলে ধরেছেন যাকে এক কথায় উভচর বলা যায়। নাম ঠিকানা হীন নিষ্পাপ এই মেয়েটির আবির্ভাব থেকেই রহস্যের শুরু! এরপর গ্রামের গরীব মানুষদের জীবন চরিত্র ফুটে উঠেছে একটু, যেখান থেকে গল্পকারের সেরিনাকে পাওয়া। এরপর মেয়েটির পানিতে বাঁচার রহস্য থেকে শুরু করে বড় হওয়ার ঘটনার প্রকাশ ঘটেছে সুন্দর ভাবে। এরই মাঝে লেখক তুলে ধরেছেন বাবা মেয়ের ভালবাসা এবং তাদের মধ্যে এক মধুর সম্পর্ক। এরপর সমাজের কাল দিক, মায়া মমতাহীন নিষ্ঠুরতা এসেছে স্বাভাবিক নিয়মেই। যা মেয়েকে বাবার থেকে দুরে ঠেলে দেয়। আর গল্পের শষে আঘাত হানে সেই বিঙ্গান যা মেয়েকে বাবার থেকে চিরতরে আলাদা হতে বাধ্য করে! এরই মাঝে লেখক ক্ষুদ্র পরিসরে অনেক সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলছেন না বলা কষ্ট এবং অবস্থার কাছে হার মানার বাধ্যতা। এর পরও কিছু রহস্য গল্পের শেষেও থেকে গেছে রহস্য! সর্বপরী একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে জাফর ইকবাল স্যারের সেরিনা একটি সার্বিক ও আদর্শ বৈঙ্গানিক কল্প কাহিনী বলার যোগ্য অসাধারন বই।
2 like 0 dislike
answered Aug 23, 2015 by সিরাজাম মুনির শ্রাবণ (205 points)

যৌন বিষয়ে সাধারণ জ্ঞান

by

Bidyut Mitra (Qazi Anwar Hussain)

 

26142682

 

সেবা প্রকাশনীর বই পড়ে যারা বড় হয়েছে তাদের অনেকেই এই বইটা পড়েছে। এই বইটা যদিও সম্প্রতি তেমন একটা পাওয়া যায় না তারপরেও অনেকের মুখেই এই বইটার কথা শুনা যায়। বইটির লেখক হিসেবে আছে "বিদ্যুৎ মিত্র", আদতে এই নামের আড়ালে আছেন স্বয়ং কাজী আনোয়ার হোসেন। 

 

আমাদের সমাজে যৌনতা একটা ট্যাবু। যেখানেই 'যৌন' শব্দটা আছে, হোক সেটা মুখের কথায় কিংবা লেখায়, মানুষদের, এমনকি শিক্ষিত মানুষদের নাক উপচানো শুরু হবে। খারাপ কথা হচ্ছে। অশ্লীল কথা হচ্ছে। এসব কী অশ্লীল কথা বলার যায়গা? 

 

লেখক বইটা লিখেছেন ছোটদের প্রতি লক্ষ করে। এবারেও অনেকে বলবে এসব কি ছোটদের পড়ানোর জিনিস? এগুলো পড়ে তো ছোটরা নষ্ট হবে আরও। তাদেরকে মনে হয় হাতে কলমে শেখাতে হবে যৌনতা মানেই অশ্লীল কিছু নয়। যৌন শিক্ষা মানেই কীভাবে যৌন মিলন করতে হবে তার কলা-কৌশল শেখানো নয়। যৌন শিক্ষা হচ্ছে মানুষের সাঁরা জীবনের খুবই দরকারী একটা জিনিসের উপর লক্ষ করে সৃজনশীল কিছু শিক্ষা। যে ব্যাপারগুলো প্রত্যেকটা মানুষকেই জানতে হয়। 

 

বাবা মায়েরা হয়তো ছেলে-মেয়েদের এইসব থেকে দূরে রাখতে চাইবে। কিন্তু কথা হচ্ছে দূরে রাখতে চাইলেও ছেলে-মেয়েরা কি এইসব জানার আগ্রহ থেকে সরে যাবে? কোনো না কোনোভাবে কিন্তু ওরা এইসব ব্যাপারগুলো জেনে যায়। কেও বলবে, এগুলো তো এমনি এমনিতেই শিখে নিবে। কিন্তু কথা হচ্ছে যে সোর্স থেকে তারা শিখবে তা যে বিকৃত ও খারাপ হবে না তার নিশ্চয়তা কী?

description 


একটা উদাহরণ দেই, অনেকে বলে থাকে মাস্টারবেশন খুবই খারাপ জিনিস। এক ফোটা বীর্য চলে যাওয়া মানে সত্তর ফোটা রক্ত চলে যাওয়া। এটা মোটেই ঠিক নয়। এমন ধারণা দেয়া হোক আর নাই হোক, একটা বয়স থেকে সকল ছেলেই মাস্টারবেশন করে। আর ঐ ধারণা মনে থাকাতে প্রতিটা মুহূর্ত পাপবোধে ভোগে। যেটা একদমই ঠিক নয়। মাস্টারবেশনের ঠিক বেঠিক নিয়ে জিরো টু ইনফিনিটিতে একটা বড় লেখা আছে, দেখে নেয়া যেতে পারে। আর রাস্তায় রাস্তায় "কলিকাতা হার্বাল" "জার্মান হারবাল" ইত্যাদি ধান্দাবাজ লোকেদের কথার ঝুলি শুনলে তো মাথায় হাত দিতে হবে। এসব ভ্রান্ত শিক্ষা থেকে ছোটদেরকে বের করে আনতে দরকার সঠিক ও মার্জিত শিক্ষা। আর তার জন্য দরকার যৌন শিক্ষার। 

 

আরও এগিয়ে কেও কেও হয়তো যৌন শিক্ষাকে সমর্থন করে নির্ভর করে বসে থাকবে স্কুলের শিক্ষকদের উপর। কিন্তু সত্য কথা হচ্ছে শিক্ষকরাও এগুলো এড়িয়ে যায়। ক্লাসে পড়ায় না। জড়তায় ভোগে। 

 

তার জন্য ভালোয় ভালোয় মার্জিত ভাষায় সঠিক তথ্য আছে এমন বই পড়তে দেয়া উচিৎ। তাতে করে ছোটদের মনে বাজে ও খারাপ রুচিবোধ জন্মাবে না। বিকৃত কাল্পনিক চিত্র তৈরি হবে না। 

 

সর্বোপরি অনেক বাবা মা তাদের সন্তানদেরকে এই বিষয়ে শেখাতে চান, কিন্তু কোন ভাষা ব্যবহার করে কম লজ্জা পেয়ে বোঝাবেন তা খুঁজে পান না। তাদের জন্য সমাধান হতে পারে বই। লেখক বইটা লিখেছেন তার সন্তানকে লক্ষ করে। সন্তান যেন বাজে শিক্ষা গ্রহণ না করে সেই দিক থেকে সতর্ক হয়ে নিজেই একটা বই লিখে ফেলেন। উল্লেখ্য বাজারে এমন বই খুব একটা নেই।

 

বইটার একটা ত্রুটি হচ্ছে কোন বয়সের জন্য বইটা লেখা হয়েছে তার কোনো নিশানা নেই। যদি প্রাথমিক শ্রেণীর বাচ্চাদের লক্ষ করে লিখে থাকেন তাহলে বইতে এমন কিছু লেখা আছে যা তাদের জন্য উপযুক্ত নয়। যেমন "নারীর চরমানন্দ" ও "সঙ্গমে তৃপ্তি"। যদি মাধ্যমিক শ্রেণীর ছেলে-মেয়েদের লক্ষ করে লেখা হয় তাহলে অনেকগুলো অধ্যায়েই বেশি সরল করে ফেলা হয়েছে। মানে যেভাবেই দেখা হোক ত্রুটি একটা রয়ে যাচ্ছেই। সবচে ভালো হয় ধরে নেয়া হয় বইটা অভিভাবকদের জন্য। অভিবাবকরা কীভাবে ছোট সন্তানদের সামনে উপস্থাপন করবেন সেটা এখান থেকে আয়ত্ব করে নিতে পারবে।

 

আর একটা ব্যাপার, বইতে একটা চিত্রও নেই। যেটা ভালো লাগেনি একদমই। ছোটদের জন্য কোনো বই লেখা হলে সেখানে চিত্র, কার্টুন দেয়া উচিৎ। ছোটরা এগুলোই পছন্দ করে। নিখাদ কন্টেন্ট পড়তে কোন কোন বাচ্চারই মনে চায়?

 

সব মিলিয়ে বইটা উৎরে গিয়েছে। বইটা সকলেরই পড়া উচিৎ, ভুল-ভাল ধারণা ও মিথ কাল্পনিক কাহিনী থেকে বেড়িয়ে আসা উচিৎ। আর এমন বই আরো লেখা হোক বাংলা ভাষায় সেই আশাই করছি।

2 like 0 dislike
answered Aug 24, 2015 by Quazi Zjaman (960 points)

ভঙ্গুর পৃথিবী ছেড়ে নক্ষত্রের পানে

 

বই রিভিউ-----
বইয়ের নামঃ ভঙ্গুর পৃথিবী ছেড়ে নক্ষত্রের পানে
লেখকঃ ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী
প্রকাশকঃ প্রথমা প্রকাশন
মূল্যঃ ১৭০ টাকা
ISBN 978 984 91201 0 0

পৃথিবীই আমাদের একমাত্র বাসস্থান। এখানেই আমাদের আবির্ভাব আর এখানেই আমাদের বিকশিত হওয়া। এই পৃথিবীটা কতই না আদর যত্ন করে আমাদের লালন করেছে তার গর্ভে, থাকতে দিয়েছে, খেতে দিয়েছে, তার সৌন্দর্য উপভোগ করতে দিয়েছে। কিন্তু আমরা অকৃতজ্ঞের মত নির্মম ভাবে আমাদের এই উপকারি পৃথিবীর অপকার করে যাচ্ছি। আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবন যাপনে ভোগ বিলাসিতা আনার জন্য ধ্বংস করছি পৃথিবীর পরিবেশ। এতে কিন্তু আমাদেরই ক্ষতি হচ্ছে। আমরা ধীরে ধীরে পৃথিবীকে করে যাচ্ছি বাসের অযোগ্য। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যাচ্ছি একটা দগ্ধ গ্রহ, যেখানে চারিদিকে শুধু আবর্জনা। এতে করে কিন্তু আমাদের ভবিষ্যতের অস্তিত্ব আশঙ্কার মধ্যে পরে যাচ্ছে। সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে বিলুপ্তির।
মানব সৃষ্টি এসব সমস্যা ছাড়া পৃথিবী বাসের অযোগ্য হবার জন্য আরও অনেক কারনই আছে সেসব এই বইতে বিস্তারিত বলা হয়েচে করেছেন। পৃথিবীতে ৫৪ কোটি বছর আগে বহুকোষী জীবের আবির্ভাব হয়েছে। তখন থেকে প্রাকৃতিক বিভিন্ন কারনে হয়ে এসেছে অনেক গন বিলুপ্তি। প্রায় একেবারে সমূলে উৎপাটিত হয়েছে প্রান। কি কারনে,কখন এবং কিভাবে সেসব গন বিলুপ্তি হয়েছে তার বর্ণনা করা হয়েছে গল্পের মত করে। কালের আবর্তনে বিভিন্ন সভ্যতার ধ্বংসের কারন, এছাড়াও কিভাবে পৃথিবী বাসের অযোগ্য হয়ে যেতে পারে এবং এর থেকে নিস্তারের উপায় কি তার সমাধান এখানে দেখান হয়েছে। প্রান উপযোগী গ্রহ, গ্রহের আয়ুষ্কাল, গোল্ডিলক্স গ্রহের সম্ভাবনা এবং সেটি কি তার বিস্তারিত বিবরন জানা যাবে বইয়ে। ভবিষ্যতে কোন একসময় হয়ত আমাদের এই পৃথিবী ছাড়তেই হবে এমনকি এই সৌরজগতও ছাড়তে হবে এবং ছাড়ার পর আমরা কোথায় যেতে পারি এবং কিভাবে, কোন ধরনের প্রযুক্তি দরকার তার একটি সুন্দর উপস্থাপনা রয়েছে বইটিতে। মূলত এই বইয়ের মূল উদ্দেশ্য হল পৃথিবীর প্রতি আমাদের সহনশীল হওয়া এবং এর যত্ন করা। কারন আমাদের এই পৃথিবীটা অত্যন্ত সংবেদনশীল একটা আবদ্ধ সিস্টেম। তাই অনেক সহজেই এটা আক্রান্ত হতে পারে। বইটা আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ভাবনার খোরাক যোগাবে। জানতে পারবেন পৃথিবীর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অবস্থার তুলনামূলক বিশ্লেষণ। এই বইয়ে উল্লেখিত লেখকের আমার ভালো লাগা সবচেয়ে সুন্দর উক্তিটি হল, “ঋণ করে হলেও ঘি দিয়ে ভাত খান”।
বইয়ের বাহ্যিক দিক নিয়ে কিছু বলা দরকার। বইয়ের প্রচ্ছদ করেছেন সাব্যসাচী হাজরা। প্রচ্ছদটা অসাধারন লেগেছে আমার কাছে। এখানে পৃথিবীর ভঙ্গুরতা আর পাখি ধারা নক্ষত্র পানে যাত্রা বোঝানো হয়েছে। প্রথমা প্রকাশনী থেকে বের হওয়া এই বইটির পৃষ্ঠা গুলোও অনেক সুন্দর। বইয়ে উল্লেখিত বিভিন্ন ছবি সহজ ও সুন্দর বাংলায় বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। আর বিশেষ করে পুরো বইয়ে কোন প্রিন্ট মিস্টেক নেই। আশা করি সবাই বইটা পড়বেন আর আমাদের স্বাদের পৃথিবীটার কিছুটাও হলেও যত্ন নিতে আগ্রহী হবেন।

2 like 0 dislike
answered Aug 24, 2015 by Quazi Zjaman (960 points)

মহাবিশ্বের শিকড়ের সন্ধানে

এত সহজ ভাষায় বিজ্ঞানের এমন জটিল বিষয় খুব কম লেখকই বোঝাতে পারেন। তেমন এক লেখকের বই পড়লাম। মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি বিকিরণের জটিল বিষয়গুলোও একেবারে সহজ উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হয়েছে বইটাতে। সবদিক দিয়েই বইটা অসাধারণ ছিল। আগ্রহী পাঠকের জন্য তাই একটা ছোট রিভিউ।

ইয়ের নাম: মহাবিশ্বের শিকড়ের সন্ধানে
লেখকের নাম: Abdullah Al Mahmud
প্রকাশক: ছায়াবীথি
পৃষ্ঠা: ৬৩
মূল্য: ১৫০৳
ISBN: 978 984 90273 3 1


বইটাতে অনেক জটিল বিষয় লেখক গল্পের আকারে খুব সহজ ভাষায় বর্ণনা করেছেন। এ বইয়ে একেবারেই শুরু থেকেরা হয়েছে। বিগব্যাং থেকে বর্তমান সময়ের মহাবিশ্বের অবস্থা, আমাদের চারপাশের পরিবেশ এসব বিষয়ে বিশদ
আলোচনা করা হয়েছে। কিভাবে একটা ক্ষুদ্র বিন্দু থেকে মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হয়ে আজকের এই অবস্থায় এসেছে এবং তার এন্ট্রপি কিভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, মহাবিশ্বের বক্রতা কিভাবে নির্ণয় করা হয়েছে, আমাদের চারপাশের ডার্ক এনার্জির অস্তিত্ব যে আছে তা কিভাবে বোঝা যায় তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বইটিতে। এছাড়া রয়েছে মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি বিকিরণ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ।
লেখক জটিল মহাজাগতিক বিষয়গুলো গল্পের ছলে খুব সুন্দর উদাহরণ দিয়ে সহজভাবে সাধারণের বোধগম্য করেছেন। আমি বইটা পড়ে মহাকাশ সম্পর্কে অনেক নতুন নতুন তথ্য জানতে পেরেছি। মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি বিকিরণের মাধ্যমে আমরা কিভাবে শিশু মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানতে পারি তা পড়ে আসলেই অবাক হতে হয়েছে। এছাড়া কোয়াসার পর্যবেক্ষণ করে কিভাবে ১০ বিলিয়ন বছর আগের মহাবিশ্ব সম্পর্কে ধারনা করা যায় তাও জানা যাবে বইটা পড়লে। অবশ্য বইয়ের কিছু বিষয় আমার মাথার উপর দিয়েই চলে গেছে। তবুও এই জটিল বিষয়টা সম্পর্কে জানতে পেরেছি এই বইয়ের কল্যাণেই। বইয়ের প্রায় ৯০% বিষয়ই আমি বুঝতে পেরেছি। সর্বোপরি বইয়ে লেখকের বর্ণনা ভঙ্গি ছিল খুবই সহজ ও সরল।
বিশেষ করে বইয়ে ব্যাবহার করা ছবিগুলো ছিল খুবই দৃষ্টিনন্দন। এই ছবিগুলোর কল্যাণেই আরও সহজভাবে ব্যাপারটা বোঝা গেছে। কসমোলজির উপর এই বইটা আসলেই অসাধারণ। বইটা নিশ্চিত ভাবেই পাঠকের জ্ঞান পিপাসা যেমন মিটাবে তেমনিভাবে এই বিষয়ে বাড়াবে পাঠকের আগ্রহ।

Question followers

2 users followed this question.

Related questions

4,665 questions

5,771 answers

1,847 comments

12,271 users

108 Online
0 Member And 108 Guest
Most active Members
this month:
    Gute Mathe-Fragen - Bestes Mathe-Forum
    ...