প্রথম বছরে আপনার শিশুকে যেভাবে খাওয়াবেন

শিশুর প্রথম বছরের খাদ্যাভ্যাস বাবা-মা এবং শিশুর জন্য এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। এটি হচ্ছে দৈহিক উন্নতি, পুষ্টি, কৌতুহল এবং শেখার সময়। খুব ভালো একটা সূচনার মাধ্যমে আপনি আপনার সন্তানের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারেন।

প্রথম ছয় মাসের জন্য

জন্মের ছয় মাস পর্যন্ত শিশু মায়ের দুধ থেকেই প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি পাবে।

  • মায়ের দুধে শিশুর জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সকল উপাদান সঠিক পরিমাণে আছে।
  • এটি শিশুর জন্য সহজপাচ্য। ফলে শিশুর ডায়েরিয়া কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্য হবার ঝুঁকি খুবই কম।
  • মায়ের দুধে আছে এন্টিবডি এবং অন্যান্য রোগ প্রতিরোধক ফ্যাক্টর, যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
  • যেসব শিশুদের বিশেষ উপায়ে মায়ের দুধ খাওয়ানো হচ্ছে, তাদের অতিরিক্তভাবে ভিটামিন ডি ড্রপ দিতে হবে।

যদি মায়ের অসুস্থতা বা অনিবার্য কারণবশত দূরে অবস্থান বা মৃত্যুজনিত কারণে শিশুকে তার মায়ের দুধ খাওয়ানো সম্ভব না হয়, তাহলে অন্য কোনো মাকে দুধ-মাতার ভূমিকা পালনের অনুরোধ করে বুকের দুধ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পারতপক্ষে মানুষের বাচ্চাকে ছয় মাস বয়সের আগে মানুষের দুধ ব্যতীত অন্য কোনো প্রাণীর দুধ দেওয়া উচিত নয়।

শিশুখাদ্য (প্যাকেটজাত, পাউডার, তরল) ফর্মুলা (গরুর কিংবা ছাগলের দুধের) মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে দেওয়া যাবে না।
শিশুখাদ্য ফর্মুলায় ক্ষতিকর জীবাণু থাকতে পারে এবং পুষ্টি উপাদানের কমতি বা অসামঞ্জস্য থাকতে পারে, যা আপনার শিশুকে অসুস্থ করতে পারে।

সয়া, চাল কিংবা অন্য যে কোনো শস্যজাতীয় খাবার পরিশোধিত হলেও মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে একদমই ঠিক নয়, কারণ এতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান নেই। এমন কোনো প্রমাণ নেই যে সয়াযুক্ত ফর্মুলা শিশুদের অ্যালার্জি হতে দেয় না। তারপরও যদি ফর্মুলা খাওয়াতে হয়, তবে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

শক্ত খাবারের শুরু

ছয় মাস বয়সী অধিকাংশ বাচ্চারা শক্ত খাবার খাবার জন্য প্রস্তুত হয়। অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি আপনার শিশুকে দুই বছর বা তার অধিক সময় মায়ের দুধ খাওয়াতে পারেন।

আপনি বুঝবেন আপনার বাচ্চা অন্যান্য খাবার খেতে প্রস্তুত যখনঃ
১। সাধারণ সময়ের চেয়ে দ্রুত ক্ষুধার্ত হচ্ছে বলে মনে হবে।
২। কোনো সাহায্য ছাড়াই উঠে বসতে পারছে এবং ঘাড়ের পেশীর উপর ভালো দখল নিতে পারছে।
৩। খাবার জিহ্বা দিয়ে ঠেলে দেওয়ার বদলে মুখ দিয়ে খাবার ধরে রাখছে।
৪। অন্যদের খাওয়ার সময় খাবারের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে।
৫। নিজের দিকে খাবার আসতে দেখলে মুখ খুলছে।
৬। শুয়ে কিংবা ঘাড় বাকিয়ে খাবার খেতে অনীহা দেখাচ্ছে।

মনে রাখবেন, সব শিশুই ব্যতিক্রম। কিছু শিশু কয়েক সপ্তাহ আগে কিংবা ঠিক ছয় মাসেই অন্যান্য খাবার খেতে প্রস্তুত হতে পারে। ছয় মাস বয়স হবার পর নতুন খাবারে তার আগ্রহ জন্মাতে অনেকদিন অপেক্ষা করলে শিশুর দেহে আয়রনের অভাব হবার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

প্রথম কোন খাবার দিয়ে শুরু করা উচিৎ?

বিভিন্ন উপায়ে শক্ত খাবার দেওয়া যেতে পারে। শিশুর প্রথম খাবার সংস্কৃতি এবং পরিবারভেদে পরিবর্তিত হয়।

  • আয়রনসমৃদ্ধ খাবার দিয়ে শুরু করুন, যা শিশুর দেহের বিভিন্ন বিকাশের জন্য জরুরী। মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য, সেদ্ধ ডিমের কুসুম এবং ভালোভাবে রান্না করা ডাল, মটর দানায় প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে।
  • বাজারে বিভিন্ন প্রকার সিরিয়াল পাওয়া যায়, সেগুলোর যেকোনোটার চেয়ে ঘরে তৈরি খাবার উত্তম। তবে যথাসম্ভব ঘন করে এবং একটু বেশি তেল দিয়ে রান্না করতে হবে। খাবারের ঘনত্ব বেশি হলে শিশু গিলতে বা হজম করতে পারবে না – এই কথার কোনো ভিত্তি নেই। বরং বেশি পাতলা হয়ে গেলে সেটাই অপুষ্টির কারণ হতে পারে।
  • শিশুকে নতুন খাবার খাওয়ানোর ক্ষেত্রে কোনো নিয়মকানুন নেই। শিশুর বয়স ছয় মাস হলে অ্যালার্জির ভয়ে কোনো খাবার (যেমনঃ বাদাম, মাছ বা ডিম) দিতে দেরি করা যাবে না। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
  • যে সকল খাবার থেকে অ্যালার্জি হতে পারে, তেমন খাবারের মধ্যে শুরুতে একদিনে শুধুমাত্র একটি খাবারই খাওয়ান। একই রকম অন্য আরেকটি খাবার দেওয়ার আগে দুইদিন অপেক্ষা করুন, যাতে বুঝতে পারেন কোন খাবারটি শিশুর দেহে বিপরীত প্রতিক্রিয়া করছে।

আপনার পরিবার প্রতিদিন যে স্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছে, তা আপনার শিশুর জন্য আদর্শ। অবশ্যই খেয়াল রাখবেন তাতে যেন অতিরিক্ত লবণ, চিনি বা মসলা না থাকে। তবে তেল একটু বেশি থাকাটা শিশুর জন্য ভালো (যদিও বয়স্কদের জন্য ভালো নয়)। কৃত্রিম শিশুখাদ্য যথাসম্ভব বর্জনীয়।

৬ থেকে ৯ মাস৯ থেকে ১২ মাস
শস্যজাত খাদ্য৩০ – ৬০ মি.লি.(২-৪ চা চামচ) আয়রনসমৃদ্ধ খাবার, দিনে দুইবার। আরো শস্যজাত খাদ্য, যেমনঃ টোস্টের ছোট টুকরা খেতে দিন।রুটি, ভাত ইত্যাদি খেতে দিন।
শাকসবজিস্যুপের মতো করে হলুদ, সবুজ, কমলা শাকসবজি খাওয়ান।নরম কিন্তু ঘন করে বেশি তেলে করে রান্না করে খাওয়ান।
ফলনরম ফল খাওয়ান, যেমন পাকা কলা।কেটে বা খোসা ছাড়ানো ফল খেতে দিন।
মাংস এবং অন্যান্যনরম করে রান্না করা মাছ, মাংস, শিমের দানা ভর্তা, ডিম খেতে দিন।ছোট ছোট টুকরো করে খেতে দিন।
দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্যদই (৩.২৫% বা তার অধিক ফ্যাটযুক্ত), ঘরে তৈরি পনির অথবা টুকরো করা শক্ত পনির দিন।গরুর দুধ দিতে পারেন।

১২ মাস বয়সী বাচ্চাকে প্রতিদিন ৫০০ – ৭২০ মি.লি. এর অধিক দুগ্ধজাত খাবার দেওয়া উচিৎ নয়। অতিরিক্ত দুধ আয়রনের ঘাটতি জনিত রক্তশূন্যতার কারণ হতে পারে।

শিশুকে কতটুকু খাবার খাওয়ানো উচিৎ?

আপনার শিশুর চাহিদা অনুযায়ী তাকে খেতে দিন।
এক বা দুই চা-চামচ দিয়ে শুরু করুন, তাড়াহুড়ো করবেন না। কিছু শিশুদের একটা খাবার পছন্দ করতে অনেক সময় লাগতেই পারে। যদি তার ক্ষুধা না থাকে, সে মাথা সরিয়ে নেবে এবং মুখ বন্ধ করে ফেলবে। যদি সে ক্ষুধার্ত হয়, তবে সে খাবারের প্রতি আগ্রহী হবে এবং মুখ খুলবে।
কখনোই খেলনা বা মিষ্টিজাতীয় জিনিসের বিনিময়ে তাকে বেশি খাবার খেতে উৎসাহিত করবেন না। যেসব শিশুরা খিদে পেলে নিজের ইচ্ছেমতো খাবার খায়, তারা পরবর্তীতে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকে। ফলে পরবর্তী জীবনে স্থূলতা সহ অনেক ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি হতে সে নিরাপদ থাকবে।

শিশুকে ভিন্ন ধরন এবং স্বাদের খাবার খেতে দিন, যাতে সে বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়ার পদ্ধতি শিখতে পারে।

আপনার শিশুর বৃদ্ধিকতক্ষণ পরপর খাওয়াতে হবেখাবারের ধরণ
সাহায্যের মাধ্যমে বসতে পারেপ্রতিদিন ২-৩ বার*গলানো, পিষে দেওয়া খাবার এবং অর্ধ-শক্ত খাবার।
নিজে নিজে বসতে পারেপ্রতিদিন ২-৩ বার*ঘরোয়া খাবার, অল্প পরিমাণে নরম খাবার।
হামাগুড়ি দিচ্ছেপ্রতিদিন ৩-৪ বার*ঘরোয়া খাবার, গুড়ো অথবা ভিজিয়ে খাওয়া যায় এমন খাবার, যেমনঃ বিস্কিট।
হাঁটতে পারেপ্রতিদিন ৩ বেলা খাবার এবং ২ বেলা নাস্তাটুকরো খাবার, শক্ত, কিছুটা মশলাযুক্ত খাবার।

*সাথে আপনার শিশুর বয়সের সাথে সামঞ্জস্য রেখে মায়ের দুধ।

পানি এবং জুস

যে শিশুরা মায়ের দুধ খাচ্ছে, ছয় মাস বয়স পর্যন্ত তাদের অতিরিক্ত পানি খাওয়ার প্রয়োজন নেই। যখন শিশু অন্যান্য খাবার খাওয়া শুরু করবে, তখন ধীরে ধীরে পানি খাওয়ানোর অভ্যাস করাতে হবে।

  • শিশুদের জুস খাওয়ার প্রয়োজন নেই। জুস শিশুদের ডায়রিয়া এবং অরুচির কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত জুস শিশুদের দাঁতের সমস্যা ঘটাতে পারে।
  • শিশু এবং ছোট বাচ্চাদের তৃষ্ণা পেলে খাবার এবং নাস্তার মাঝে পানি খাওয়াতে হবে। যদি আপনি জুস খাওয়াতে চান, তবে খেয়াল রাখবেন তা যেন ১০০% ফলের রস হয়। সবসময় খাবার ও নাস্তার অংশ হিসেবে কাপে জুস খেতে দিন। প্রতিদিন ১২৫-১৭৫ মি.লি. এর বেশি জুস খেতে না দেওয়াই বাঞ্ছনীয়।

এমন কী খাবার আছে যা শিশুর খাওয়া উচিৎ নয়?

  • বাচ্চাদের মিষ্টিজাতীয় খাবার বা পানীয় দেওয়া উচিৎ নয়, যেমনঃ ক্যান্ডি, সোডা বা এনার্জি ড্রিংক।
    এক বছরের কম বয়সী বাচ্চাকে মধু খেতে দেবেন না, কারণ এতে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে (মধুতে অনেক গুণ আছে এটা সত্যি
  • তবে তা এক বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য নয়)।
    যে কোনো প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

শিশুকে খাওয়ানোর ব্যাপারে আর কী করা উচিৎ?

  • শিশুকে খাবার বা স্তন্যদানের পূর্বে সবসময় হাত ধুয়ে নিন।
  • শিশু হামাগুড়ি দিতে শেখার পর থেকে খাওয়ার পূর্বে তার দুই হাত ধোয়ানো অভ্যাস করান, এমনকি সে নিজে হাতে খেতে শুরু করার আগে থেকেই।
  • দিনে দুইবার নরম কাপড় দিয়ে শিশুর মাড়ি মুছে দিন।
  • শিশুকে মাছ, ডিম, বাদামজাতীয় খাবার দিতে দেরী করবেন না। একবার খাওয়ানো হলে এসব খাবার শিশুকে নিয়মিত দিতে হবে।

কীভাবে শ্বাসনালীতে খাবার আটকে যাওয়া এড়াবেন?

ছোট বাচ্চারা খাবার চিবিয়ে চূর্ণ করতে জানে না। তারা এটাও জানে না কীভাবে খাবারের একটি টুকরো না চিবিয়ে গিলে ফেলা আটকানো যাবে। যে সব খাবার গলায় আটকে যায়, সেগুলো ছোট, গোল কিংবা বেলনাকার হতে পারে। যেমনঃ ফাস্টফুড, আঙুর, গাজরের টুকরো, শস্যদানা, ক্যান্ডি।

বয়সশারীরিক উন্নতিসামাজিক উন্নতি
জন্ম থেকে ৪ মাস বয়সী* স্তন্যপানের সময় মুখ বড় করে খোলে।
* চোষণ এবং গলাধঃকরণ
* ১০ সপ্তাহের মধ্যে দুধের উৎস সম্পর্কে পরিচিত হয়।
৪-৬ মাস বয়সী* চুষে খাওয়ার ক্ষমতা বাড়ে।
* মুখে আঙুল দিয়ে থাকে।
* খাবার সময় ভাব বিনিময় করে।
৬-৯ মাস বয়সী* বড়দের ধরে থাকা কাপের সাহায্যে খায়।
* চামচের সাহায্যে নরম খাবার খায়।
* পর্যায়ক্রমে খাবার চিবিয়ে খায়।
* খাবার ধরে থাকতে এবং আঙুল দিয়ে খেতে পছন্দ করে।
* খাবারের সময় সবার সাথে খাবার টেবিলে থাকতে পছন্দ করে।
* নির্দিষ্ট খাবারের ক্ষেত্রে পছন্দ অপছন্দ প্রকাশ করে।
৯-১২ মাস বয়সী* চামচ ব্যবহারের চেষ্টা করে।
* আরো সচেতনভাবে আঙুল দিয়ে খেতে শুরু করে।
* সময়মতো খায়।
* অন্যরা কী করছে তা বুঝতে পারে।
* অন্যদের নকল করে।
১২-১৮ মাস বয়সী* আঙুল দিয়ে খাবার ধরে এবং বের করে আনে।
* চামচ ধরতে শেখে কিন্তু অদ্ভূতভাবে।
* মুখের ভেতর চামচ ঘোরায়।
* কাপ ব্যবহার করে কিন্তু ফেলে দিতে পারে।
* অন্যরা যা খাচ্ছে তা খেতে চায়।
* অভিনয় করতে ভালবাসে।
* সহজ প্রশ্ন এবং অনুরোধ বুঝতে পারে।
১৮-২৪ মাস বয়সী* খাদ্যে অরুচি
* হাত দিয়ে খেতে পছন্দ করে।
* বিভিন্ন ধরনের খাবার চেখে দেখতে পছন্দ করে।
* সহজেই মনোযোগ সরানো যায়।
* কিছু নির্দিষ্ট খাবার খায়।
* অভ্যাস / প্রথাকে গুরুত্ব দেয়।

আপনার শিশুকে রক্ষা করতেঃ

  • শিশুর খাওয়ার সময় তার দিকে লক্ষ্য রাখুন।
  • আপনার শিশু বসে খাচ্ছে কিনা তা দেখুন।
  • কাঁচা সবজি, যেমনঃ গাজর, ছোট ছোট টুকরো করে খেতে দিন।
  • শক্ত ফল এবং সবজি নরম করার জন্য রান্না করে খেতে দিন।
  • গোল খাবার, যেমনঃ আঙুর, লম্বা করে কেটে খেতে দিন।
  • ফলের বোঁটা এবং যেকোনো গর্ত থাকলে তা ফেলে দিয়ে খেতে দিন।
  • মাংস ছোট ছোট টুকরো করে খেতে দিন।
  • রুটির বদলে টোস্টের উপর আঠালো খাবার, যেমনঃ ফ্রুট বাটার, ছড়িয়ে দিন।
  • বাচ্চাকে গোটা বাদাম, পপকর্ণ, ক্যান্ডি, কাঁটাসহ মাছ খেতে দেবেন না।

শিশুর খাওয়া নিয়ে চিন্তিত হবেন না, শিশু নিজে নিজেই খেতে শিখবে। তবে প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি ঠিকমতো পাচ্ছে কিনা তার দিকে লক্ষ্য রাখুন। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে প্রথম থেকেই যত্নবান হোন।