পেগানিজম – বিলুপ্তপ্রায় এক সময়ের প্রভাববিস্তারকারী ধর্ম এবং পেন্টাকল

 

ইতিহাসের লুকায়িত পাতাগুলোর মতোই এই Paganism কে এখনো লুকোছাপা দেওয়া হয় সব জায়গায়। কারণ এখানে লুকিয়ে আছে অসংখ্য গোপন তথ্য। তাহলে বিস্তারিত জানা যাক এ ব্যাপারে।

pagan শব্দটি মুলত এসেছে paganus থেকে যার সহজ মানে villager বা rural. খুব সহজেই আমরা এ থেকে কিছুটা আন্দাজ করতে পারি, এই paganism কাদের ধর্ম ছিল বা কারা এই ধর্মের অনুসারী ছিল।আসলে পেগানিজম প্রাচীন গ্রিস আর রোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত একটা বিশাল সংখ্যক মানুষের ধর্ম বা বিশ্বাস ছিল যাদের অধিকাংশই ছিল গ্রামের অধিবাসী।

সংক্ষেপে যদি এই পেগানিসমের ইতিহাস বলতে যাই তবে বলতে হবে পেগানিজমের শুরুটা মানব সভ্যতার বেশ আগে থেকেই। যতটুকু এখন পর্যন্ত জানা গেছে তাতে ধারণা করা হয় পেগানিজমের শুরুটা stone age বা প্রস্তর যুগ থেকে। পেগানিজমের উপযুক্ত সংজ্ঞা কী হবে তা নিয়ে বেশ খানিকটা মতভেদ আছে ইতিহাসবিদদের মধ্যে। তবে একটা বিশাল অংশের মতে পেগানিজম হলো Judaism, Christianity, Islam অথবা Hinduism এর বাইরে একটা বিশ্বাস যেটা একাধিক ঈশ্বরে বিশ্বাস করে এবং এই ঈশ্বরের ধারণাটা সম্পূর্ণ আপেক্ষিক। অর্থাৎ বর্তমান প্রচলিত ধর্মগুলোতে যেরকম ঈশ্বরের একটা স্থায়ী রুপ অথবা সংজ্ঞা পাওয়া যায় পেগানিজমে তা ছিল না।

পেগানরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ঈশ্বরের সংজ্ঞা পাল্টাত। যেমন ধরেন কোনো বছর যদি অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হতো তখন তারা বৃষ্টিকে দেবতা বানিয়ে পুজা করত। অবশ্য এগুলো পেগানিজমের এক্কেবারের শুরুর কথা। আরেকভাবে অবশ্য অনেকেই পেগানিজমকে সংজ্ঞায়িত করেন। তাদের কাছে পেগানিজম হলো – simply being without any religion.

Pagan দের বিশ্বাসঃ প্রথমেই বলেছি পেগানরা একাধিক ঈশ্বরে বিশ্বাস করত। অবশ্য আব্রাহামিক ধর্মগুলোর মতো তাদের স্বর্গ বা নরকের কোনো ধারনা ছিল না বা তারা এগুলোতে বিশ্বাস করতো না। তবে একটি জায়গায় হিন্দু ধর্মের সাথে বেশ মিল পাওয়া যায় সেটি হলো -পুনর্জন্ম। পেগানরাও পুনর্জন্মে বিশ্বাসী ছিল। তাছাড়া পেগানরা পৃথিবীর বেসিক চারটি এলিমেন্টে বিশ্বাস করত। এগুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে একটু করে বলি-

১। Earth: পৃথিবীকে তারা স্ত্রীলিঙ্গ সম্বন্ধীয় ভাবত। কারণ পৃথিবী উর্বর এবং আমাদের জন্ম পুনর্জন্মের ধারক এই পৃথিবী ঠিক যেমন করে মা সন্তানকে ধারণ করে জন্ম দেয়।

২। Air: বাতাস ছিল তাদের কাছে breath of life. তারা ভাবত বাতাস আমাদের সমস্যা বইয়ে নিয়ে যায় দূরে এবং positive thoughts গুলো আমাদের নিকটবর্তী করে দেয়।

৩। Fire: আগুনকে তারা সকল শক্তির আঁধার ভাবত। আগুনের ধ্বংস এবং গড়ার ক্ষমতা আছে বলে এটি তাদের কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার ছিল।

৪। Water: পানি ছিল ঈশ্বরের উপাদান। কারন এর রয়েছে শুদ্ধ এবং হিল করার ক্ষমতা। আর এইজন্যই পেন্টাকল পেগানিজম মতবাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিম্বল।

এবার আসি কীভাবে পেগান ধর্ম আর তার অনুসারীরা পৃথিবী থেকে বিলুপ্তপ্রায়

আসলে সে সময়ে রোমে যখন হঠাৎ করে যখন একটা বিশাল শক্তিরূপে আবির্ভূত হল তখন পেগানিজমের মৃত্যু অনেকটা পাকাপোক্ত হয়ে গেল। তখনকার অধিকাংশ রাজা বা সম্রাটরা খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করে নিলে সাধারণ পেগানদের উপর চূড়ান্তরকম নির্যাতন চালানো হয়। এভাবেই একটা বিশাল অংশ মানুষ পেগান থেকে রুপান্তরিত হয় বা তাদেরকে মেরে ফেলা হয়। বর্তমান খ্রিষ্টান ধর্মের এত বিশাল অনুসারির পিছনে এইসব আগ্রাসনের ভুমিকা ছিল অনেকখানি। আর তাই বর্তমান খ্রিষ্টান ধর্ম অনেকাংশেই পেগান প্রভাব যুক্ত।

এমন অনেক জিনিসই রয়েছে যেগুলো আমরা খ্রিষ্টানদের বলে জানি অথছ সেগুলো ছিল পেগানদের থেকে ধার করা – যেমন যীশুর জন্ম আমরা ২৫ই ডিসেম্বর বলে জানি, কিন্তু পুরো ব্যাপারটাই মিথ্যা। কারণ যীশুর জন্ম হয়েছিল এপ্রিলে। আর ২৫ই ডিসেম্বর ছিল পেগানদের উৎসবের দিন। কিন্তু ইতিহাসে ফাঁদে পড়ে এই দিনের তাৎপর্য এখন ভিন্নরকম। তাছাড়া এখনকার খ্রিস্টানদের ক্রস বলে যে জিনিসকে আমরা চিনি তাও পেগানদের থেকে ধার করা।

এখন খ্রিষ্টানদের দুহাত জোর করে প্রার্থনা করার ভঙ্গি টাও পেগানদের। এই রকম হাজারো জিনিস আছে যেগুলো পেগানিজমের থেকে ধার করা। আসলে তখন পেগানরা জ্ঞান বিজ্ঞানে অনেক এগিয়ে ছিল। এই জন্যই তারা অনেক আগ্রাসনের শিকার ছিল এবং পরবর্তীতে তাদের জিনিসগুলো স্রেফ চুরি করা হয়েছে।

(সংগৃহীত এবং সম্পাদিত)