শনিগ্রহের বলয়ের রহস্য

 

শনিগ্রহ দেখতে অনেকটা বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়ে থাকে আমাদের মাঝে। গ্রহটির বিচিত্রতা এবং এর চারপাশে থাকা রহস্য নিয়ে বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের কমতি নেই। মূলত এর চারপাশে ঘিরে থাকা বলয়টির কারণেই এটি এতোটা বৈচিত্র্যময়। তবে যে শুধু শনি গ্রহের বলয় আছে, তা নয়, এর পাশাপাশি ইউরেনাস, নেপচুন এবং জুপিটারের চারপাশেও বলয় আছে। মজার ব্যাপার হলো, শনি গ্রহের মতো এদের কারো বলয় এতোটা উজ্জ্বল এবং বড় নয়।

 

62699main_image_feature_197_jwfull_0

দূর থেকে শনি গ্রহের বলয় দেখে মনে হয়, এটিতে মোট ৭টি বলয় রয়েছে। এসব বলয় কয়েক হাজার মেইল পর্যন্ত প্রশস্ত। প্রতিটি বলয়কে একেকটি এলফাবেট দিয়ে নামকরণ করা হয়। বলয়গুলোকে এদের আবিষ্কারের সময়কাল অনুসারে যথাযথভাবে নামকরণ করা হয়েছে। যেমন শনির সর্বপ্রথম যে বলয় আবিষ্কার হয়, এর নাম দেয়া হয় A রিং, যদিও A রিং শনি গ্রহের সবচেয়ে কাছের বলয় নয়। আবার কিছু কিছু বলয় একে অপরের অনেক কাছাকাছি অবস্থান করে। বাকিগুলোর মাঝে অনেক বড় দুরত্ব থাকে, যেটা পাশের ছবিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি। মজার ব্যাপারগুলো হলো, বলয়গুলোকে যতো কাছে থেকে পর্যবেক্ষণ করা হয়, মনে হয় যে এরা আরো ছোট ছোট বলয় নিয়ে গঠিত এবং বলয়গুলোর কোনটিই স্থির নয়। এরা শনিকে কেন্দ্র করে ঘুরে থাকে।

 

 

 ১৬১০ সালে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও সর্বপ্রথম শনির চারপাশে বলয় পর্যবেক্ষণ করেন। ঠিক সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা এই শনি গ্রহের বলয়ের রহস্য নিয়ে গবেষণা করছেন। তবে এখন পর্যন্ত তারা যে পরিমান তথ্য অনুমান এবং সংগ্রহ করতে পেরেছেন, তাও অবহেলা করার মতো নয়।

বিজ্ঞানীরা এতোটুকু নিশ্চিত হয়েছেন যে, বলয়টি পাথর এবং কঠিন বরফের সমন্বয়ে তৈরী। এসবের আকার ছোট থেকে মাঝারী এমনকি অনেক বড়ও হয়ে থাকে। ছোট আকারের পাথরগুলো বালুকণার সমান এবং মাঝারি-বড় আকারের পাথরগুলো একেকটি বাড়ির মতো বিশালাকারেরও হয়ে থাকে! কিন্তু বিজ্ঞানীরা আজও পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেননি এসব বলয় কিভাবে এবং কখন সৃষ্টি হয়েছিলো। বিজ্ঞানীরা বলেন যে, শনির চারপাশে যে বলয় রয়েছে, তার সাথে এর চাঁদগুলোর কোন না কোন সম্পর্ক রয়েছে। মনে করা হয়, এর চাঁদের ধ্বংসাবশেষ এবং অন্যান্য গ্রহাণু বা মহাজাগতিক বস্তু থেকেই এই বলয়টি সৃষ্টি হয়েছে।

আমাদের জানামতে, পৃথিবীর যেখানে একটি মাত্র চাঁদ রয়েছে, সেখানে শনিকে কেন্দ্র করে রয়েছে প্রায় ৬০টির মতো চাঁদ! বিজ্ঞানীরা এখান থেকেই অনুমান করেন যে, মহাবিশ্ব থেকে ছুটে আসা বিভিন্ন বস্তু এবং গ্রহানূ শনি গ্রহের চাঁদগুলোর সাথে সংঘর্ষের ফলে চাঁদগুলো ধ্বংসাবশেষে সৃষ্টি হয়। এই ধ্বংসাবশেষগুলোই পরে কালক্রমে শনি গ্রহের চারপাশে বলয় সৃষ্টি করে। তাঁরা আরো বলেন যে, শনিগ্রহ যখন সৃষ্টি হয়, তখন এর আদিবস্তুগুলো থেকেও এই বলয় সৃষ্টি হতে পারে।